শাহরাস্তিতে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে যুবক-যুবতী আটক

প্রেম-ঘৃণা, বৈধ-অবৈধ—এসব বিতর্ক ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ল হাতেনাতে। শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়ার বাইল্লাতলী গ্রামের একটি বাড়িতে রাত দশটার দিকে স্থানীয়রা অসামাজিক অবস্থায় আটক করেন এক যুবক ও এক যুবতীকে। তারপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ একটি ফোন। আর তাতেই যেন বাজ পড়ে যায় এলাকায়। শাহরাস্তি মডেল থানার পুলিশ ছুটে এসে তাদের জালে তোলে। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত সোয়া দশটায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এসআই আল আমীন ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, উত্তেজিত স্থানীয়রা ঘেরাও করে রেখেছেন আব্দুল্লাহ আল ফারাবি (২২) ও বিবি মরিয়ম মীম (২২) নামের দুই যুবক-যুবতীকে। তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের নাম-ঠিকানা বললেও বৈধ বিবাহের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। আব্দুল্লাহ শাহরাস্তির নিজমেহার গ্রামের বাসিন্দা, আর মরিয়ম কচুয়ার বিষ্ণপুরের। বর্তমানে তিনি বাইল্লাতলীর সৈয়দ আহম্মদের বাড়িতে পালক মা নাসিমা বেগমের সঙ্গে থাকতেন। অভিযোগ, সেখানে তাঁরাই ছিলেন এই ঘটনার মূল কেন্দ্র। এসআই আল আমীন ভূঁইয়া জানান, ‘তাদের কথাবার্তা ও আচরণে অসামাজিক কার্যকলাপের স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল। আইনি কাগজ না থাকায় ওসি স্যারের নির্দেশে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এই ‘অভিযান’ সফল হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। কেউ কেউ বলছেন, ‘এমন ঘটনা এলাকার সামাজিক বন্ধন নষ্ট করে। তাই দ্রুত আইনের হাতে তুলে দেওয়া ভালো।
শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, ‘৯৯৯–এর মতো জরুরি সেবাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষ সাহস করে অসামাজিক কার্যকলামূলক ঘটনার খবর দিতে পারেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। বৈধতার কোনো প্রমাণ না পেয়ে আমরা তাঁদের আদালতে সোপর্দ করেছি।’
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃতদের চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। শাহরাস্তির এই ঘটনা আবারও আলোড়ন ফেললেও প্রশ্ন থেকেই যায়—কোনটা প্রেম আর কোনটা অপরাধ? উত্তরের ভার রইল আদালতের কাঁধে।

