• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||
  • আর্কাইভ

ব্রেকিং নিউজ

সময় রাত সোয়া নয়টা : মোটর রিকশায় হকার্স মার্কেটের পূর্ব মাথা থেকে পালবাজার আসতে লাগলো পনর মিনিট

অটোবাইকের যন্ত্রণা থেকে কবে মুক্তি পাবে শহরবাসী?

প্রকাশ:  ১৭ নভেম্বর ২০২০, ১৩:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

অসংখ্য অগণিত অটোবাইকের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ চাঁদপুর শহরের মানুষ। পুরো শহরটিতে পিঁপড়ার মতো ছেয়ে গেছে অটোবাইক। সম্পূর্ণ অবৈধ এই যানবাহনটির উপদ্রবে শহরে মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। কী দিনে কী রাতে। পঙ্গপালের ন্যায় পুরো শহর দাবড়িয়ে বেড়ায় এই অটোবাইক। এই অটোবাইকের জটে মানুষ অতিষ্ঠ। শহরজুড়ে অটোবাইকের এই অসহনীয় জটের একমাত্র কারণ হচ্ছে অসংখ্য অগণিত অটোবাইকের ছড়াছড়ি।


ছোট্ট এই শহরটিতে হাতেগোনা কয়েকটি প্রধান সড়ক। আর এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দিন রাত সবসময় থাকে অটোবাইকের দখলে। একই সময়ে কত হাজার অটোবাইক যে রাস্তায় বিচরণ করে তার কোনো হিসেব নেই। নিয়ম শৃঙ্খলার ধারেকাছেও নেই। যেখানে মন চায় সেখানেই স্ট্যান্ড করে থাকে, সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। কী রাস্তার উপর আর কী রাস্তার মাঝখান, সেদিকে অটো চালকদের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। মন চাইল তো রাস্তার মাঝখানেই থামিয়ে রাখলো। এভাবেই সড়কের পুরো অংশ এলোমেলোভাবে দখলে থাকে অটোবাইকের। আর এ পরিস্থিতিতে শহরে যে কোনো যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে পাঁচ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করে গন্তব্যে যেতে সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। এ যে কী এক ভোগান্তি আর যন্ত্রণা শহরবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে, তা বলার মতো নয়। বলতে গেলে এখন চাঁদপুর শহরের প্রধানতম সমস্যা হচ্ছে অটোবাইকের দ্বারা সৃষ্ট যানজট। অবৈধ এই যানবাহন এবং এর চালকদের কাছে যেনো শহরের মানুষগুলো জিম্মি হয়ে আছে, এদের কাছে যেনো সবাই অসহায়। বছরের পর বছর এই সমস্যাটি চলতে থাকলেও কোনো দায়িত্বশীল সংস্থা থেকে এর থেকে উত্তরণে তথা মানুষকে মুক্তি দিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপই এ পর্যন্ত নেয়া হয়নি। উপরন্তু চাঁদপুর পৌরসভার সদ্য বিদায়ী মেয়রের বিদায় নেয়ার কদিন আগে নতুন করে আরো প্রায় তিনশ' অটোবাইকের লাইসেন্স দেয়া হয়। এটি করে চাঁদপুর পৌরবাসীর উপর কোনো প্রতিশোধ নেয়া হলো কি না সেটাই এখন ভুক্তভোগী এই শহরবাসী ভাবছে।

 


গত রোববার রাত সোয়া নয়টার সময় এই প্রতিবেদক নিজেই ভুক্তভোগী একটি চিত্রের কথা তুলে ধরলে বুঝা যাবে যে কী অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে আছে এই শহরের মানুষগুলো। রাত সোয়া নয়টার দিকে হকার্স মার্কেটের পূর্ব মাথা থেকে এই প্রতিবেদক রিকশায় উঠেন চৌধুরী মসজিদ পর্যন্ত আসার জন্যে। রিঙ্াটি ছিলো মোটর চালিত। মোটরের রিঙ্ায় এইটুকু পথ যেতে খুব ধীরগতিতেও যদি যায় তাও সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ মিনিটের বেশি সময় লাগার কথা নয়। অথচ পালবাজার পর্যন্ত যেতে মোটরের রিঙ্ায় সময় লেগেছে ১৫ মিনিট। এতটুকু পথ পায়ে হেঁটে গেলেও ৫-৭ মিনিটের বেশি সময় লাগে না। রিঙ্ায় চড়ার পর একটু সামনে এগুলেই শপথ চত্বর পর্যন্ত একনজরে দেখা যায় দীর্ঘ জ্যাম। ক্যাফে কর্নারের সামনে থেকে শপথ চত্বর পর্যন্ত শুধু অটো আর অটো। পিঁপড়ার লাইনের মতো একটার গায়ের সাথে আরেকটি লেগে আছে। অনেকক্ষণ বসে থাকার পর রিকশা কিছুটা সামনে এগোয়। শপথ চত্বরে আসার পর সেখান থেকে পুরো কালীবাড়ি এলাকা, ওয়ান মিনিট মোড় থেকে পালবাজার গেইট পর্যন্ত পুরো রাস্তাই অটোবাইকের দখলে। হকার্স মার্কেটের পূর্ব মাথা থেকে পালবাজার গেট পর্যন্ত এতটুকু রাস্তায় ৩/৪ লাইনে থাকা অটোবাইকের সংখ্যা হবে পাঁচ শতাধিকেরও বেশি। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে ওই সময়ে দেখা গেলো এতোসংখ্যক অটোবাইকের মধ্যে ৯০ ভাগ অটোই খালি। অর্থাৎ কোনো যাত্রী নেই। যাত্রী ছাড়াই অটোবাইকগুলো রাস্তায় ছোটাছুটি করছে। কিন্তু কেনো? শহরে যাত্রী তথা মানুষের চেয়ে অটোবাইকের সংখ্যা হবে কয়েক গুণ বেশি। এর মধ্যে কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলার বালাই নেই। এই অটোবাইকের জট অতিক্রম করে অন্য কোনো গাড়ি পার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সে এক অসহনীয় দুর্ভোগ ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে না। পায়ে হাঁটার পাঁচ মিনিটের পথ রিঙ্ায় যদি ১৫ মিনিট সময় লাগে, সে সময়টি যে কতটা দুর্বিষহ তা ভুক্তভোগীই বলতে পারবেন। অথচ এই সময়টাতে মানুষের অতীব জরুরি কতো কাজ থেকে। অটোবাইকের এই জটের কারণে সব ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়।

চাঁদপুর শহরবাসী পৌর মেয়রের কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চেয়েছেন-এই অটোবাইকের যন্ত্রণা থেকে তারা কি মুক্তি পাবে ? তারা মেয়রের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন, সহসাই যেনো বাস্তবমুখী, টেকসই, স্থায়ী এবং কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করে এই শহরবাসীকে অটোবাইকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

সূত্র : চাঁদপুর কণ্ঠ