চাঁদপুরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা হত্যা

সাভারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা (২৫)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা-এর তেতৈয়া মোল্লা বাড়ির শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফাহিম আল হাসান নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তিনি ঢাকা কলেজ-এর অর্থনীতি বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, ফাহিমের কাছ থেকে খাদিজার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের একটি হলফনামা উদ্ধার করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, এটি স্পষ্টতই একটি হত্যাকাণ্ড। ফাহিম নিজেকে নিহতের স্বামী দাবি করেছেন এবং এ সংক্রান্ত একটি হলফনামাও দেখিয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, বিকেলে বাসায় ফিরে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে খাদিজাকে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীদের জানান এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগে সকালে দুজনের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিকেলে ফাহিম বাসায় ফিরে রক্তাক্ত অবস্থায় খাদিজাকে পড়ে থাকতে দেখার কথা জানান। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহের তীর তার দিকেই।
ঢাকা জেলার সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ইশান জানান, নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। উল্লেখ্য, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। নিহত শারমিন জাহান খাদিজা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

