• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
  • ||
  • আর্কাইভ

সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ উত্তোলন

প্রকাশ:  ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুরের আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খানের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছিল। অবশেষে আদালতের নির্দেশে ২৬ মাস দুই দিন পর বুধবার (৭ অক্টোবর) ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়েছে।
এদিন সকাল ৮টায়সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন এলাকায় প্রথমে সেলিম খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। এরপর তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহও উত্তোলন করা হয়। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশের পর ময়নাতদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসক সেই আবেদন মঞ্জুর করার পর আজ এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
দীর্ঘ ২৬ মাস পর কোনো মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলন প্রসঙ্গে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নূর আল দীন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মামলার স্বার্থে লাশ তোলা হয়। এক্ষেত্রে শরীরে মাংসপেশি না থাকলেও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় এমনটা হয়ে থাকে।
নিহত সেলিম খান সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থা ‘শাপলা মিডিয়া’র স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তার ছেলে শান্ত খানও একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
বিগত সরকারের আমলে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ ছিল সেলিম খানের বিরুদ্ধে।
এছাড়া চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে তিনি ‘বালুখেকো চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিতি পান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকির একাধিক মামলা এবং কারাবাসের ইতিহাসও রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করার সময় জনতার পিটুনিতে সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান নিহত হন।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আদালত কবর থেকে মরদেহ দুটি তুলে ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেন।