বিশ্ববাজারে চার সপ্তাহে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া হামলা পাল্টা হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অপরিশোধিত তেল সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ বাজার পরিস্থিতি অনুসারে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার বা ১ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪ দশমকি ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমকি ৭০ ডলার বা ২ দশমকি ২ শতাংশ বেড়ে ৭৯ দশমিক ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে।
এর আগে গত সেশনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে ৯ দশমকি ৬ শতাংশ বেড়েছিল, যা ২০২০ সালের মে মাসের পর থেকে তেলের মূল্যের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃদ্ধির রেকর্ড। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করার পর বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী সমস্ত বাণিজ্যিক কার্গো বা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে বিশেষ শুল্ক আরোপের বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন। মার্কিন ও ইরানি সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া দফায় দফায় হামলা ও পাল্টা হামলার পরই ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়, যা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের চেইনে মারাত্মক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার এই বিষয়ে জানান, আমেরিকার নতুন অবরোধ এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া বিশ্ববাজারে বড় ধরনের নতুন ঝুঁকি ইনজেক্ট বা যুক্ত করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি এখনও পুরোপুরি বন্ধ না হলেও দুই দেশের যুদ্ধ মনোভাবের কারণে তেল সরবরাহের ভবিষ্যৎ চিত্র সংকটের মুখে পড়েছে। এই সংঘাতের জেরে বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকার ও জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ধীর হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে তেলবাহী জাহাজের যাতায়াত কমে গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াংকা সাচদেবা বলেন, বিশ্ব বাজারের জন্য সবচেয়ে বড় ভীতি হলো হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে তেলের বাস্তব বা ভৌত চলাচল স্বাভাবিক থাকে কি না। যদি ট্যাংকার চলাচলে কোনো বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি বাধা বা রপ্তানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটে, তবে জ্বালানি তেলের দাম আরও এক দফা বাড়তে পারে।
এর মধ্যেই ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোয় মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলো থেকে তেল সরবরাহে নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।

