• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • ||
  • আর্কাইভ

দিনাজপুরের লিচু বাজার জমে উঠেছে

প্রকাশ:  ০২ জুন ২০২৬, ০৯:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

লিচুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে এখন মৌসুমি ফলটির জমজমাট বেচাকেনা চলছে। জেলার কালিতলা এলাকার প্রধান লিচুর বাজারে ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি পাইকারি ব্যবসায়ীরাও ট্রাকভর্তি লিচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, এ বছর জেলায় ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার লিচু বিক্রি হতে পারে। অনুকূল আবহাওয়া ও লাভজনক হওয়ায় দিনাজপুরে লিচু চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তুলনামূলক কম খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় কয়েক দশক ধরে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ বিস্তৃত হয়েছে। জেলাজুড়ে মাদ্রাজি, বেদানা, বোম্বাই, চায়না-থ্রি, চায়না-টু, কাঁঠালি ও মোজাফফরি জাতের লিচুর বাগান রয়েছে। সম্প্রতি দিনাজপুরের বেদানা লিচু ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।
সদর উপজেলার মাসিমপুর ও আউলিয়াপুরসহ বিরল উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাগানগুলোতে লিচু সংগ্রহ, বাছাই ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, ঝড়বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে এ বছর বেদানা ও মাদ্রাজি জাতের কিছু ক্ষতি হলেও সামগ্রিক ফলন সন্তোষজনক।
সদর উপজেলার কসবা এলাকার লিচুচাষি সবুজ হোসেন বলেন, বৃষ্টি আর বাতাসে কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে মোটের ওপর ফলন ভালো। গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা কম হলেও বাজার মোটামুটি ভালো আছে। আশা করছি, ভালো দাম পাব। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুরে ৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। চলতি মৌসুমে ৩৭ হাজার ৫৯৩ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে বোম্বাই জাতের লিচুর আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাজি ১ হাজার ৮৯ হেক্টর, চায়না-থ্রি ৭১১ হেক্টর, চায়না-টু ১৩২ হেক্টর, বেদানা ৩০৮ হেক্টর, কাঁঠালি ২৪ হেক্টর এবং মোজাফফরি ১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
কালিতলা বাজারের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর লিচুর সরবরাহ ভালো। কয়েক দিনের তুলনায় সোমবার সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে প্রতি ১০০টি বেদানা লিচু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, আকারভেদে চায়না-থ্রি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মাদ্রাজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং বোম্বাই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও দিনাজপুর শহরের কালিতলা এলাকায় পৌর নিউ মার্কেটসংলগ্ন স্থানে লিচুর মৌসুমি বাজার বসেছে। লিচু ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা সারা দেশেই আছে। ঈদের পর আজ সবচেয়ে বেশি লিচু বাজারে এসেছে। দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। তাই বাজারে বেশ প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।
অফিসের কাজে ঢাকা থেকে দিনাজপুরে আসা রুস্তম আলী কুরায়েশী পরিবারের জন্য লিচু কিনতে বাজারে এসেছেন। তিনি বলেন, একসময় দিনাজপুরে থাকতাম। তখন অনেকেই এখানকার লিচু পাঠাতে বলত। এখন ঢাকায় থাকি। সেখানে প্রায় সব লিচুই দিনাজপুরের বলে বিক্রি করা হয়। কিন্তু এখানকার লিচুর স্বাদ ও গুণগত মান আলাদা। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমন সুস্বাদু। 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, দিনাজপুর লিচু উৎপাদনে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ জেলা। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। ৩৭ হাজার ৫৯৩ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে লিচু বিক্রি থেকে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে। পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত মিলিয়ে আরও ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হবে।