• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
  • ||
  • আর্কাইভ

মাকে নৃশংসভাবে হত্যাকারী ঘাতক ছেলে গ্রেফতার

প্রকাশ:  ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫৭ | আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ১০:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

ছেলে কর্তৃক মাকে গলা কেটে নৃশংস হত্যার ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে আসামী গ্রেফতার এবং মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী নিহতের স্বামী আতর খান।
২৭ এপ্রিল শনিবার চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুদীপ্ত রায়।
তিনি জানান, মামলার বাদী আতর খান ফরিদগঞ্জ থানাধীন রূপসা বাজারের পাশে একটি মাদ্রাসায় বাবুর্চির কাজ করেন। গ্রেফতারকৃত আসামী রাসেল (২৭) বাদীর ছোট ছেলে। সে ফরিদগঞ্জ বাজারের একটি মুদি দোকানে চাকুরি করতো। বাদী তার স্ত্রী এবং ছোট ছেলে রাসেলসহ ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন ইছাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। বিগত তিন মাস যাবৎ বাদীর এই ছেলে রাসেল (২৭) উশৃঙ্খল আচরণ ও চলাফেরা করতো। এতে তার পিতা-মাতা ছেলে রাসেলকে নিষেধ করলে আসামী তার পিতার-মাতার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং মারধর করে। বিষয়টি আতর খান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন আহমেদ রাজনকে অবগত করলে আসামী তার পিতামাতাকে প্রাণে হত্যা করে ফেলবে বলে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। অতঃপর বাদী আতর খান গত ২৬ এপ্রিল ভোর ৫টার সময় নিজ কর্মস্থল রূপসা মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি হতে বের হয়ে চলে যান। তখন আসামী রাসেল ও তার মা ভিকটিম রানু বেগম (৫৭) বাড়িতে ছিলো। ওইদিনই দুপুর অনুমান পৌনে তিনটার  সময় রাসেল পিতা আতর খানকে মোবাইল ফোনে জানায় যে, ‘আমি মাকে জবাই করে লাশ ঘরে রেখে দিলাম’। তারপর ফোন কেটে দেয়। বাদী তাৎক্ষণিক মাদ্রাসা হতে তার বসত বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে দুপুর অনুমান ৩টা ১৫ মিনিটের সময় বাড়িতে এসে তার বসতঘরের খাটের ওপর তার স্ত্রী ভিকটিম রানু বেগম (৫৭)-এর গলাকাটা লাশ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। বীভৎস এই দৃশ্য দেখে বাদী বুঝতে পারেন যে, তার ছোট ছেলে রাসেল তার মাকে কাঁচি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তিনি ডাক-চিৎকার দিলে ওই বাড়িসহ আশপাশের বাড়ির লোকজন এসে উক্ত ঘটনা দেখতে পায়।
সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) পংকজ কুমার দে এবং অফিসার ইনচার্জসহ ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিম রানু বেগম (৫৭)-এর রক্তাক্ত অবস্থায় গলা কাটা লাশ বসতঘরের খাটের উপর থেকে উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করার জন্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এরপর চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম, বিপিএম পিপিএম (বার)-এর সার্বিক পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা মোতাবেক ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ কৌশলে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন কেরোয়া গ্রাম হতে ঘাতক রাসেলকে গ্রেফতার করে। রাসেলের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার পিতার দোচালা টিনশেড বসত ঘরের কাঁড় (সিলিং) হতে আসামী রাসেলের দেখানোমতে হত্যার কাজে ব্যবহৃত রক্তমাখা কাঁচি (আল কাঁচি) এবং ঘটনার সময় আসামী কর্তৃক পরিহিত তার রক্তমাখা লুঙ্গি ও শার্ট উদ্ধার করে। পরবর্তীতে বাবা আতর খান থানায় হাজির হয়ে তার ছেলে রাসেল (২৭)-এর বিরুদ্ধে লিখিতভাবে এজাহার দায়ের করলে এই হত্যা মামলাটি রুজু করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় প্রেস ব্রিফিংকালে ঘটনা সম্পর্কে আরো বলেন, তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট রাসেল দীর্ঘদিন ধরেই বিয়ে করার জন্যে পরিবারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলো। কিন্তু ছেলে বেকার হওয়ায় তার কথায় কেউ কর্ণপাত করেনি। বিয়ের দাবি পূরণ না করায় শুক্রবার দুপুরে রাসেল তার মাকে একা পেয়ে ধারালো কাঁচি দিয়ে পোচ দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই মোঃ ইসমাইল হোসেন, এসআই মোঃ রুবেল ফরাজী, এএসআই মোঃ নাঈম হোসেন, এএসআই মোঃ মনিরুল ইসলাম'সহ একটি চৌকস টিমের কর্মতৎপরতায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত চুলচেরা বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রাপ্তির মাত্র ৪ ঘন্টার মধ্যে চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এহেন হত্যাকাণ্ডটির মূল হোতা আসামী রাসেলকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনা সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধারসহ আসামীর স্বীকারোক্তি গ্রহণ করা হয়।
তিনি বলেন, যথাশ্রীঘ্রই মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) রাশেদুল হক চৌধুরী ও ফরিদগঞ্জ থানার ওসি সাইদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।