• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০
  • ||
  • আর্কাইভ

দক্ষিণ আফ্রিকায় এলএমএস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশীপ খেলবেন চাঁদপুরের সাদ্দাম

প্রকাশ:  ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে শুরু হয়েছে এলএমএস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশীপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। আজ ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ডিসেম্বর। কেপটাউন শহরেই এ টুর্নামেন্টের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এ টুর্নামেন্টে লায়লা ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলবেন বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক ক্রিকেটার ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বেপারী বাড়ির সাদ্দাম হোসেন।
এ টুর্নামেন্টে ২৪টি দল অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৩টি দল, দক্ষিণ আফ্রিকার ১২টি, ইংল্যান্ডের ৫টি, পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রেরও দল রয়েছে। ৬টি গ্রুপে ২৪টি দল অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশের ৩টি দল হচ্ছে হেরিটেজ জয়পুর, ক্রিকেটার্স কুমিল্লা ও লায়লা ক্রিকেট একাডেমী।
সাদ্দাম হোসেনের ক্রিকেটের পথচলাটা ২০০৭ সালে চাঁদপুর ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে কোচ শামীম ফারুকীর তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে। এরপর নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ রেখে এক বছর পরেই জেলা দলের হয়ে ২০০৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রিকেটে খেলেন সাদ্দাম হেসেন। এভাবে আঞ্চলিক ক্রিকেটে সাফল্য কুড়ানোর মধ্য দিয়ে দু’বছর পর ২০১১ সালটা ছিলো সাদ্দামের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির বছর। সে বছরই বয়স ভিত্তিক দলে প্রথমবারের মতো লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। একই বছর ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট ও তিন ম্যাচ ওডিআই সবমিলিয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের নিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন ৭০ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। এরপর খুব একটা পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি সাদ্দামকে। পরের বছরই ২০১১ সালে বয়সভিত্তিক জাতীয় দল অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে তিনি সুযোগ পান নেপালের বিপক্ষে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে ক্রিকেটে। সে সিরিজটাতে ৩-০ তে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ এবং ২৫০ রানের অপরাজিত স্বপ্নময় এক ইনিংস খেলেন প্রতিভাবান এ ব্যাটসম্যান। সময়ের পালাক্রমে সুযোগ হয় দেশের প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে। নেপালের বিপক্ষে ৩-০ তে সিরিজ জেতার বছরই ঢাকা লীগে সিটি ক্লাবের হয়ে নাম লেখান প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে। এক বছর সিটি ক্লাবের হয়ে খেলার পরের বছরই তাকে দলে নেয় অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট একাদশ। এ ক্লাবটাতেই টানা খেলেন চার বছর। ২০১৬ সালে যোগ দেন ঢাকা লীগের হট ফেভারিট দল রূপগঞ্জ টাইগার্সে। এই দলটার হয়েও খেলেন দুই মৌসুম। সবশেষ এক মৌসুম খেলেছেন আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। এমন পথযাত্রার মধ্যেও নিজ জেলা চাঁদপুর জেলা দলের বয়স ভিত্তিক সবকটা টুর্নামেন্টেই নিয়মিতভাবে ক্যাপ্টেন্সী করছেন। এখানেই শেষ নয়। নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন্সীর মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। ২০১৭-১৮ এবং ২০১৯-২০ সালে সুযোগ হয় দেশের বাইরে রেড ব্লু টুর্নামেন্টে। সাত দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি ওয়ার্ল্ডকাপে এই টুর্নামেন্টে ক্যাপ্টেন হিসেবে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই দুই আসরে দল প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও তিনি চার ম্যাচেই ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন। দুটি টুর্নামেন্টেই হন ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট। নিজের ক্রিকেট প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিক সাফল্যধারা অব্যাহত রেখে একদিন লাল-সবুজের জার্সিটা গায়ে জড়িয়ে বিশ^ মঞ্চে বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেন ফরিদগঞ্জের প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার।  
সাদ্দাম হোসেন ক্রিকেট খেলছেন অনেকদিন ধরেই। একজন অলরাউন্ডার হিসেবে সকলের কাছেই তিনি পরিচিত মুখ। সুযোগ পেলে চাঁদপুর স্টেডিয়ামেও বিভিন্ন ক্রিকেট লীগ ও টুর্নামেন্টে অংশ নেন। চাঁদপুর স্টেডিয়ামে বিভিন্ন জেলার ক্রিকেট দল নিয়ে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় বাজেটের এবং জেলার ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বড় টুর্নামেন্টের সফল আয়োজকদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। শুক্রবার বিকেলে এ প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি জেলাবাসীসহ ক্রিকেটার ও শুভাকাক্সক্ষীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন বিদেশের মাটিতে যেনো ভালো ক্রিকেট খেলা উপহার দিতে পারেন।

সর্বাধিক পঠিত