• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
  • ||
  • আর্কাইভ

চাঁদপুরে শিলা হত্যাকাণ্ড : গ্রেফতার আরও ১

প্রকাশ:  ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

 চাঁদপুরে নিহত গোপালগঞ্জের নারী শিলা হত্যা মামলার ৩নং আসামী রফিক গাজীকে (২১) এবার  আটক করতে সক্ষম হয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ। ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে এসআই শাহজাহান সঙ্গীয়  ফোর্স গোপন সংবাদের ভিক্তিতে ওই আসামীকে চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের হাঁপানিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে। সে ওই গ্রামের সিকান্দার গাজীর ছেলে এবং এই হত্যা মামলার ৩নং আসামী। তাকে রোববার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মহসীন আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ৭ সেপ্টেম্বর সকালে মৈশাদী গ্রামে ঝোঁপের ভেতর এক নারীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে আমরা ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করি। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা ব্যাগে তার জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। নিহতের নাম শিলা খানম, পিতা : মোঃ মানছুর খান, মাতা : কমলা বেগম, সাং গোপালগঞ্জ সদর।
সেই পরিচয়পত্র ও তাঁর মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে স্বজনদের খবর দেয়া হয়। পরে ঘাতকদের ধরতে অভিযানে নামে পুলিশ।
ওসি জানান, শিলা হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত ৩ জন আসামীর মধ্য পিবিআই মূল আসামিসহ ২ জনকে আর আমরা থানা পুলিশ অপর আসামিকে ধরেছি। এর আগে এ হত্যাকাণ্ডের মূল ঘাতক পরকীয়া প্রেমিক রাজীবসহ তার বন্ধু হৃদয়কে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করে পিবিআই।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মহসীন আলম বলেন, নিহত শিলা খানমের স্বামী ইউসুফ আলী সরদার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইতিমধ্যে আটক ২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। রোববার আমরা আটক ৩নং আসামী রফিক গাজীকে আদালতের সোপর্দের পর তারও জবানবন্দি নেয়া হবে।
৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার সকালে পিবিআই চাঁদপুর পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন গত ৬ সেপ্টেম্বর শিলা খানম খুলনা যাওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জের বাসা থেকে বের হন। এরপর স্বজনরা তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান।
৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নের মৈশাদী গ্রামের এক বাড়ির বাগানের ঝোপ-জঙ্গল থেকে শিলা খানম নামে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। এই ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর মামলাটি পিবিআই তালিকাভুক্ত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় পিবিআই উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমানকে। তদন্ত টিম তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে উত্তর মৈশাদি গ্রামের মজুমদার বাড়ি আজিজ মজুমদারের ছেলে প্রধান আসামী মোঃ রাজীব মজুমদার এবং অপর আসামী পাশের ইউনিয়ন আশিকাটির হাঁপানিয়া গ্রামের খান বাড়ির মৃত স্বপন খানের ছেলে মোঃ কামরুল হাসান হৃদয়কে সদর থানাধীন দাসদী গ্রামস্থ পাঠান বাড়ির মোঃ মাসুদ গাজী বাড়ি হতে গ্রেফতার করা হয়।
আসামীদের গ্রেফতারকালে ভিকটিম শীলা খানম (২৮)-এর ব্যবহৃত এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি মূল আসামী মোঃ রাজিব মজুমদারের নিকট হতে এবং আসামীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সীম কার্ডগুলো উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে জব্দ করা হয়।
পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, প্রধান আসামি রাজীব মজুমদার গোপালগঞ্জের একটি জুয়েলারি দোকানে চাকরির সুবাদে পরিচয় হয় স্থানীয় গৃহবধূ শিলা খানমের সাথে। শিলা খানমের স্বামীর নাম ইউসুফ আলী সরদার। তাদের ঘরে ৫ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
পরে তাদের মধ্যে পরকীয়া ও শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে শিলা বেগম তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এরপর তার পরকীয়া প্রেমিক রাজীব মজুমদার পরিকল্পনা মতো শিলাকে নিয়ে গোপালগঞ্জ থেকে পালিয়ে চাঁদপুরে নিয়ে আসে। আসার সময় রাজিব মেয়েটিকে নিয়ে এখন কী করবে বিষয়টি তার বাড়ি এলাকার দুই বন্ধুকে কল করে জানায়।
তার প্রথমে উদ্দেশ্য ছিলো লঞ্চযোগে চাঁদপুর আসার পথেই শিলাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিবে। কিন্তু সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় চাঁদপুর এসে গ্রামের বাড়ি এলাকায় যায় এবং তার দুই বন্ধু হৃদয় ও রফিক তাদের সঙ্গী হয়। ঘটনার রাতে মৈশাদী ইউনিয়নের রাস্তা দিয়ে যাবার সময় সেখানকার একটি বাগানে এনে পরকীয়া প্রেমিক রাজিব অপর দুই বন্ধুর সহযোগিতায় শিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ জঙ্গলে ফেলে রেখে চলে যায়। এ ঘটনা ঘটিয়ে তারা তিনজন নিজ নিজ এলাকাতে অবস্থান করছিলো।
এ হত্যাকাণ্ডের ৩৬ ঘন্টার মধ্যে পিবিআই ও থানা পুলিশ পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামি রাজিব মজুমদার ও তার সহযোগী বন্ধু মোঃ কামরুল হাসান হৃদয় এবং রফিক গাজীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

সর্বাধিক পঠিত