• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
  • ||
  • আর্কাইভ

কচুয়ায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেখা যায়নি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে

প্রকাশ:  ১০ মার্চ ২০২৪, ১৪:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

জাদুকরি ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। সেই ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দিন। যুগান্তকারী ভাষণের স্মারক হিসেবে দিনটি অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। ১৯৭১ সালে এই দিনে তখনকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১৯ মিনিটের এক জাদুকরি ভাষণে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর ও সংগ্রামে উজ্জীবিত করেছেন বঙ্গবন্ধু।
দিবসটি উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কচুয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসটি সূচনা হয়। প্রথমে স্থানীয় সাংসদ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদের পক্ষে ইউএনও মোঃ ইকবাল হাসান, ওসি মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ পোদ্দার ও পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানিক ভৌমিক পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো নেতৃবৃন্দকে পুষ্পস্তবক অর্পণে দেখা যায়নি। পর্যায়ক্রমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হাসানের নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলা পরিষদের পক্ষে মোঃ শাহজাহান শিশির, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে আব্দুল মবিন, কচুয়া থানার পক্ষে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির পক্ষে ডিজিএম বেলায়েত হোসেন ও এজিএমকম আবু হানিফ, কচুয়া প্রেসক্লাবের পক্ষে সভাপতি আলমগীর তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক সুজন পোদ্দারের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো নেতৃবৃন্দকে তাদের সংগঠনের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেখা যায়নি। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপস্থিত না দেখে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষের মাঝে লক্ষ্য করা গেছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের মিলনয়াতনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের তাৎপর্য তুলে ধরে ইউএনও মোঃ ইকবাল হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল মবিন, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান ও উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রাণধন দেব। এ সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা ও কচুয়া শহিদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায়ও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো নেতৃবৃন্দদের দেখা যায়নি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান শিশিরের সাথে সংসদ সদস্য সেলিম মাহমুদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে কচুয়া আসনে নৌকার প্রার্থী সেলিম মাহমুদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিলেও কেউ কারো সাথে কথা বলেননি ও দেখা করেননি। সংসদ নির্বাচনের পর তাদের মধ্যকার বিরোধ আরো বড় আকার ধারণ করে। সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ বর্তমান এমপি ড. সেলিম মাহমুদের পক্ষে থাকায় সভাপতি শাহজাহান শিশিরের সাথেও দূরত্ব তৈরি হয়।
আজকে এই ঐতিহাসিক দিনে সাংসদ ড. সেলিম মাহমুদের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কোন শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে দেখা যায়নি। তার পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ইউএনও মোঃ ইকবাল হাসান ও ওসি মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ পোদ্দার ও পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানিক ভৌমিক।
আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন না করার কারন জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ শাহজাহান শিশির জানান, আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। আমার সাধারণ সম্পাদক কী কারণে আসেন নি তা আমি অবগত নই।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী জানান, আমি অসুস্থ থাকার কারণে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণে যেতে পারিনি।
উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ মাঠ পর্যায়ে শক্ত অবস্থানে থাকলেও আজকে ওই ঐতিহাসিক ৭ মার্চে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ভাষণের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ কাউকে দেখা যায়নি।

 

সর্বাধিক পঠিত