• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

ভুল চিকিৎসায় কাঁচামাল ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে হাসপাতাল ভাংচুর ১ লাখ টাকায় রফাদফা

প্রকাশ:  ০৪ মে ২০২১, ১৩:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

চাঁদপুরে মা ও শিশু হাসপাতাল (প্রাঃ)-এ ভুল চিকিৎসায় জিতু বেপারী (২৫) নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় হাসপাতালে থাকা আসবাবপত্র ভাংচুর করে রোগীর স্বজনরা।


রোববার ২ মে সকাল ৮টায় চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের মা ও শিশু হাসপাতালে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার কথা শুনে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ, এসআই সুমন দেবনাথ, এএসআই মেজবাসহ পুলিশ সদস্যরা ছুটে আসেন।

 


জিতু বেপারী ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৯নং উত্তর গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার স্বপন বেপারীর ছেলে। তিনি ঢাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। জিতু গত ৮ মাস পূর্বে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী বর্তমানে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

 


জিতুর বোন রুনা আক্তার জানান, বাড়িতে থাকা অবস্থায় ক'দিন যাবত জিতুর প্রচ- পেট ব্যথা হয়। পরে আমরা গ্রাম্য ডাক্তার সাইফুল ইসলাম (বাবু)র কথা অনুযায়ী চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে মা ও শিশু হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ভর্তি করাই। ডাঃ বাবু জানান, জরুরি ভিত্তিতে জিতুর অপরেশন করতে হবে। তার পেটের নাড়ি-ভুড়ি পেঁচিয়ে ছিদ্র হয়ে গেছে। ৩০ হাজার টাকা লাগবে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে তার অপারেশন করা হয়। শুক্রবার ভোরে জিতুর জ্ঞান ফিরে ও শনিবার রাত থেকে তিনি কালো বর্ণের হয়ে যান। জিতুর অপারেশন করতে গিয়ে তারা নাড়িভুড়ি কেটে ফেলেন। সেই যন্ত্রণায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।

 


জিতুর পিতা স্বপন বেপারী জানান, আমার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে জিতু সবার বড়। আমি এ হাসপাতালে অপারেশন করাতে রাজি হই নি। গ্রাম্য ডাক্তার সাইফুল ইসলাম (বাবু) আমাকে বলেছেন, এখানে ভালো অপারেশন হয়, চিন্তা করার কিছু নেই।


হাসপাতালের পরিচালক মোঃ মহসীন সর্দার জানান, আমরা অপারেশন করার পূর্বে সম্মতিপত্রে তাদের স্বাক্ষর নিয়েছি। আর অপারেশন হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, আজকে তাকে রিলিজ দেয়ার কথা ছিল। স্বজনরা রোগীর জ্ঞান ফিরলে অঙ্েিজন খুলে কথা বলতে চায়, নার্সকে না বলে পানি খাওয়ায়। রোগী মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বজনরা হাসপাতালে ভাংচুর করে। পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ায় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়া হলে অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সায়েদ সরকার, জেলা বিএমএ সভাপতি ডাঃ এনএন হুদাসহ অন্যরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বসে মৃতের পরিবারকে ১ লাখ টাকা দিবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিষয়টি আপস মীমাংসা করেন।