• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

বাংলা সাহিত্যে নক্ষত্র পতন

চাঁদপুরে জন্ম নেয়া বরেণ্য কবি শঙ্খ ঘোষ আর নেই

প্রকাশ:  ২২ এপ্রিল ২০২১, ১৫:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট


বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ আর নেই। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি কলকাতার নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৯ বছর। তাঁর মৃত্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যের একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো।

 


শঙ্খ ঘোষ মেঘনা-ডাকাতিয়া বিধৌত চাঁদপুরে ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মণীন্দ্রকুমার ঘোষ, মা অমলা ঘোষ। শঙ্খ ঘোষের প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। চাঁদপুর শহরের পালবাজারে তাঁর মামাবাড়ি। এখানেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়ায়। শঙ্খ ঘোষ বাবার কর্মস্থল পাবনায় বেড়ে ওঠেন। তবে চাঁদপুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও যাতায়াত নিয়মিত ছিলো। শৈশব ও কৈশোরে তিনি প্রায়ই চাঁদপুরে এসে বেড়াতেন। শঙ্খ ঘোষ সর্বশেষ চাঁদপুরে আসেন ১৯৯৭ সালে।

 


এ প্রতিবেদক কবি শঙ্খ ঘোষের সানি্নধ্য পেয়েছেন। শঙ্খ ঘোষ তাকে বলেছিলেন, তার জন্ম চাঁদপুর শহরের পালবাজারে। তাঁর মা অমলা বসু চাঁদপুরের মেয়ে। তার নানা কূলচন্দ্র বসু। মামা চাঁদপুরের খ্যাতনামা উকিল বিমল চন্দ্র বসু ও পরিমল চন্দ্র বসু। তিনি ১০/১২ বছর পর্যন্ত নিয়মিত চাঁদপুরে আসতেন। কখনো এসে ১ মাসও থাকতেন। তাঁর লেখায় অনুষঙ্গ হিসেবে চাঁদপুরের প্রকৃতি ও পরিবেশ এসেছে।

 


কবির পরিবার জানায়, শঙ্খ ঘোষ বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২১ জানুয়ারি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। গত ১৪ এপ্রিল তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। ২১ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টা তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শঙ্খ ঘোষ কোভিডে আক্রান্ত হলেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য হবে।

 


বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী ছিলেন শঙ্খ ঘোষ। তিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, সমালোচক ও রবীন্দ্র-গবেষক ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, দিলি্ল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্বভারতীতে অধ্যাপনা করেন।

 


তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ : 'দিনগুলি রাতগুলি', 'বাবরের প্রার্থনা', 'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে', 'গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ'। 'ওকাম্পোর রবীন্দ্রনাথ' তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণা গ্রন্থ। 'শব্দ আর সত্য', 'উর্বশীর হাসি', 'এখন সব অলীক' উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ। তাঁর লেখা 'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে', 'গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ', 'জন্মদিনে', 'আড়ালে', 'সবিনয়ে নিবেদন', 'দিনগুলি রাতগুলি', 'বাবরের প্রার্থনা' বছরের পর বছর দুই বাংলায় চর্চিত, জনপ্রিয়। ২০১৯ সালে প্রথমা প্রকাশন থেকে রের হয় 'সন্ধ্যানদীর জলে : বাংলাদেশ'।

 


সাহিত্যজীবনে স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৭৭ সালে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালেও তিনি একই পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার, সরস্বতী সম্মান, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার, দেশিকোত্তম সম্মান। ২০১১ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করেন।
গতকাল বিকেলে নিমতলা মহাশ্মশানে কবির অন্ত্যেষ্টেক্রিয়া সম্পন্ন হয়।



শঙ্খ ঘোষের মৃত্যুতে চাঁদপুরের সাহিত্যাঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কবির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুরের মহাপরিচালক কাজী শাহাদাত। তিনি শোকবার্তায় বলেন, চাঁদপুরের জন্মগ্রহণ করে কবি শঙ্খ ঘোষ আমাদের সমৃদ্ধ করেছেন, চাঁদপুরের মাটি ও মানুষ ধন্য হয়েছে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি