• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭
  • ||
  • আর্কাইভ

ব্রেকিং নিউজ

বাড়ছে দুর্ঘটনা বাড়ছে মৃত্যু

সচেতন হলে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব : জেলা প্রশাসক

প্রকাশ:  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

চাঁদপুরে সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত, বেপরোয়াভাবে যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে বেশি। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আহত হয়ে ভুগছেন অনেকে। কেবল শারীরিকভাবেই নয়, আর্থিকভাবেও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। কেন চাঁদপুরে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না, এই প্রশ্ন এখন সচেতন মানুষের। তাদের প্রশ্ন, এসব দুর্ঘটনার দায় কার?


সর্বশেষ ৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় শাহরাস্তিতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ২ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। এরমধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেপরোয়া গতির কারণেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খালে পড়ে যায়। এতেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ২০২০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার কাকৈরতলায় দ্রুতগামী পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ হারান মোঃ মহিউদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী। একই স্থানে ২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল। কভোডা বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এতে অন্তত ৫ জন নিহত হন।

 


গত একবছরে ফরিদগঞ্জের সড়কগুলোতে ঘটেছে একের পর এক দুর্ঘটনা। ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ সড়কের ইসলামপুর এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইলেকট্রিশিয়ান রহমত উল্লাহ (৪০) নিহত হন। একই বছরের ২৬ অক্টোবর ফরিদগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে ট্রাকচাপায় জান্নাতুল ফেরদৌস (১৫) নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। ২ নভেম্বর মোটরসাইকেল-সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন ৩ জন। ফরিদগঞ্জ টিএন্ডটি এলাকায় ঘটা এই দুর্ঘটনায় নিহত সবাই ছিলেন মোটরসাইকেল আরোহী। ২৯ নভেম্বর ফরিদগঞ্জের ধানুয়ায় কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজি স্কুটারের মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালক মোরশেদ পাটওয়ারী প্রাণ হারান। গত ১ ডিসেম্বর ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে লরি ও সিএনজিচালিত অটোরিক্সার সংঘর্ষে নিহত হন আরও ২ জন। এ ঘটনায় পুলিশ গাড়ি দুটি জব্দ করে। তবে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগের কারণে গত দুমাসে এ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটা কমে এসেছে।

সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান হাজীগঞ্জেও কম নয়। ২০২০ সালের ২৫ এপ্রিল হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের জিয়ানগরে সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি চালক কাওছার হোসেন (৪৫) মৃত্যুবরণ করেন। ৬ মে হাজীগঞ্জ রামগঞ্জ সড়কের রান্ধুনীমুড়া গ্রামে শ্রমিক বহনকারী পিকআপের সাথে রিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক রিকশাচালক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ৯ শ্রমিক আহত হয়েছেন। ২২ অক্টোবর দুপুরে হাজীগঞ্জ পৌরসভা কৈয়ারপুল এলাকায় পিকঅ্যাপ ভ্যানের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবক প্রাণ হারান। ১২ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জ-কচুয়া-গৌরিপুর সড়কের উপজেলার কাঁঠালি গ্রামের খানবাড়ি জামে মসজিদের সামনে গাড়িচাপায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি প্রাণ হারান। ১৬ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জে পৃথক পৃথক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন : আব্দুল আজিজ মজুমদার (২৫), মোঃ রায়হান (১৮) ও মজনু মিয়া (৬০)। এবছরের ২৬ জানুয়ারি হাজীগঞ্জ-গৌরিপুর কচুয়া সড়কের ডুমুরিয়া নিলামপাড়া এলাকায় মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত হন। হাজীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার এই চিত্র সম্পূর্ণ নয়।

চাঁদপুরের প্রতিটি উপজেলাতেই কমবেশি ছোটবড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। গত ৪ ডিসেম্বর ইউএনও শিউলি হরির সভাপ্রধানে ফরিদগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনারোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অবাধে সিএনজি-অটোরিকশা চলাচল, অদক্ষ ও শিশু-কিশোর চালক, ওভারটেকিং করা, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, অনিয়ন্ত্রিত গতি, যত্রযত্র যাত্রী ওঠা-নামা, সড়ক পরিবহন আইন ও ট্রাফিক আইন না মানা, যাত্রীদের অসচেতনতার কথা বলা হয়। এছাড়াও ২২ ডিসেম্বর চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়ককে দুর্ঘটনা মুক্ত রাখতে প্রস্তাবিত ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ইউএনওর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয় ফরিদগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, ফরিদগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা যখন বেশি ছিল, তখন দুর্ঘটনা রোধ করতে আমরা অনেক কাজ করেছি। যাত্রী, চালক, মালিকদের সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। সড়কের পাশে নির্দেশনামূলক বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। ধানুয়ার এখানে যে মোড় রয়েছে, সেখানেও অনেক কাজ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে ফরিদগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা তুলনামূলক এখন কমে গেছে। আমাদের কাজগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে। এসব কাজ চলমান থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে চালকদের বেপরোয়া মনোভাব ও গতি রুখতে সচেতনতা এবং প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া প্রয়োজন। যথাযথ প্রশিক্ষণের পরই কেবল ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। পথচারী, চালক-মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকেই সচেতন হতে হবে। দুর্ঘটনারোধে সড়কে পুলিশ ও মোবাইল কোর্টকে আরও সক্রিয় না করলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে না। অন্যদিকে সড়ক ব্যবস্থাপনার দিকেও বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

চাঁদপুরে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে নিরাপদ সড়ক চাই_নিসচার চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন রাসেল বলেন, আমরা এককভাবে সড়ক দুর্ঘটনার দায় কাউকে দিতে পারি না। মূলত সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে সকলের মধ্যে সচেতনতা জরুরি। চালক, পথচারী, যাত্রীসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে বিআরটিএ, ট্রাফিক বিভাগসহ প্রশাসনকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের প্রণীত আইনগুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনারোধে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, আমরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রতিনিয়ত কাজ করছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তারা কাজ করছেন। চালকদের প্রশিক্ষিত ও সচেতন করার কাজগুলোও অব্যাহত আছে। সড়কে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যানবাহন মালিকদের সচেতন হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি দেয়া যাবে না। যাত্রী ও পথচারীদের দায়িত্ব নিতে হবে। প্রত্যেকের অবস্থান থেকে সচেতন হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।