• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||
  • আর্কাইভ

ব্রেকিং নিউজ

মেঘনায় জেলেদের হামলায় নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের ১৩ সদস্য আহত

৪৭ রাউন্ড গুলি ও ১৮ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ ৭ জেলে আটক

প্রকাশ:  ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ জেলে ও জেলে পরিবারের সদস্যদের হামলায় নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের ২জন পুলিশ কর্মকর্তা (এসপি ও এডিশনাল এসপি)সহ ১২জন নৌ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে জেলেপল্লীতে ৪৭ রাউন্ড গুলি ও ১৮ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। আহতরা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গতকাল ২৫ অক্টোবর রোববার বেলা ১১টায় রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে শিলারচর ও লক্ষ্মীরচর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ঢাকা হেডকোয়ার্টার নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার হেলাল উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা পারভীন (৩৬), ইন্সপেক্টর মুজাহিদুল ইসলাম (৪১), এসআই ইলিয়াস (৩০), প্রসেনজিৎ (২৪), হেলাল উদ্দিন (৫০), নায়েক ইকবাল (৪০), আল মামুন (২৮), ফেরদৌস শেখ (২৬), নীলয় দেব (২৫), আলামিন (২৫), কাউসার (৩০), মোনায়েম (২৬) ও নায়েক শাহজালাল (২৫)। এর মধ্যে পুলিশ সুপার হেলাল উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

রোববার গভীর রাতে তারা ঢাকা নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে নৌ পুলিশ সুপার হেলাল উদ্দিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা পারভীনসহ বিশাল একটি টিম নিয়ে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে নামে। এই টিম মেঘনা নদীর শিলারচর ও লক্ষ্মীরচর এলাকায় অসংখ্য জাল নৌকা দেখে অভিযান চালায়। এ সময় জেলেরা একজোট হয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। জেলেরা ইটপাটকেল, বিভিন্ন লাঠিসোটা, জালের চাক্কি নিক্ষেপ করে পুলিশ সদস্যদের উপর আক্রমণ চালায়। এতে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের অনেকে রক্তাক্ত জখম হয়ে গুরুতর আহত হয়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।

আহত ইন্সপেক্টর মুজাহিদ জানান, তারা শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকা হেডকোয়ার্টার থেকে এডিশনাল ডিজাইজি নজরুল ইসলাম, এসপি শফিকুল ইসলাম, মিনা মাহমুদাসহ প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়ে মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের পদ্মা-মেঘনায় অভিযানে আসেন। এ সময় আকাশে ছিলো বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার। চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর শিলারচর ও লক্ষ্মীরচর গেলে তারা দেখেন যে, মেঘনা নদীতে অনেক জেলে মা ইলিশ নিধন করছে। এ সময় তারা স্পীডবোট যোগে জেলেদের ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও জাল আটক করে। আর জেলেদেরকে ধাওয়া করে। জবাবে জেলেরা সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। এ সময় সাত জেলেকে আটক করা হয়। এরা হচ্ছে : ওমর ফারুক, কবির হোসেন, রুবেল, খলিল, শাহজাহান, মাহফুজ ও নাছির হোসেন।

এদিকে এমন হামলার ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের খোঁজ-খবর নেয়া হয় এবং তাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হয়। এ হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। শিলারচরে হামলার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানান।