• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

হাজীগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-সন্তান হাসপাতালে

প্রকাশ:  ২৫ এপ্রিল ২০২১, ১০:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

হাজীগঞ্জে প্রতিবেশীর হামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাবিব উল্লাহর স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৬৫) ও সন্তান জুয়েল রানা (২২) গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার অপর ছেলে সুষ্ঠু বিচার চেয়ে হাজীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সাথে একই বাড়ির পাশের অপর অংশের সম্পত্তি বিরোধ রয়েছে অনেক আগ থেকে। কিন্তু এদিনের ঘটনাটি ঘটে ছোট একটি আমগাছের চারা লাগানোকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একই বাড়ির অপর পরিবারের লোকজন। ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৈয়ারপুল সাতবাড়িয়া গ্রামের বড় বাড়িতে।
এ ঘটনায় ৪ জনকে বিবাদী করে শুক্রবার হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলে শাখাওয়াত হোসেন।
বিবাদীরা হলেন, একই বাড়ির মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে মনির হোসেন (৪৭), মনির হোসেনের স্ত্রী ভুলু বেগম (৩৮), ছেলে মোঃ রনি (২২) ও আশ্রাফুল ইসলাম (১৮)। লিখিত অভিযোগের পর হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ জয়নাল আবেদীন-২ সঙ্গীয় ফোর্সসহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সাথে কথা বলেছেন।
আহত জুয়েল রানা জানান, এদিন সকালে টিনের বেড়ার বাইরে তথা আমাদের দখলকৃত জমিতে জোরপূর্বক আম গাছের গাছ রোপণ করেন বিবাদী মনির হোসেন। এতে আমি বাধা দিতে গেলে মনির হোসেন তার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে পাশের ডোবায় ফেলে পানিতে চেপে ধরে। পাশেই আমাদের ঘর থেকে আমার মা তা দেখতে পেয়ে আমাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে। তখন মা যেন আমাকে মনিরের কবল থেকে উদ্ধার করতে না পারে সেজন্য মনির হোসেনের সাথে তার স্ত্রীসহ দুই ছেলে এগিয়ে এসে আমাদের মা-ছেলের উপর হামলা চালায়। পরে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে আমাদের মা- ছেলেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
অভিযোগের বাদী শাখাওয়াত হোসেন জানান, বিবাদী পরিবারের সাথে আমাদের সম্পত্তিগত বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের জেরে এর আগেও বেশ কয়েকবার আমাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং সালিস হয়। ওই সালিসে মনির হোসেনকে মুচলেকাসহ অর্থদ- করা হয়। কিন্তু দিন দিন মনির বেপরোয়া হয়ে উঠছে।  সালিসরা আমাদের মীমাংসা করে দেয়। পূর্বের জরিমানার টাকা আজও সে পরিশোধ করেনি। কিছু হলেই মকিমাবাদ তার শ^শুর এলাকা থেকে মাস্তান বাহিনী নিয়ে আমাদের মারধর করে।
এ দিকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে মনির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমরা মারধর করিনি বরং তারা (মুক্তিযোদ্ধার পরিবার) সবাই মিলে আমাদের মারধর করে এবং আমাকে ও আমার স্ত্রীকে পুকুরের পানিতে চেপে ধরে। এতে আমরা দু’জনে গুরুতর আহত হই। বর্তমানে আমরা চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। এ ঘটনায় তিনি নিজেও মামলা করবেন বলে জানান।
শুক্রবারের হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও পূর্বে হওয়া সালিসগণের একজন বয়োবৃদ্ধ মৃত খলিলুল রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান জানান, মনির হোসেন তার বাউন্ডারীর বাইরে আমের চারা লাগানোকে কেন্দ্র এ অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। মনির এ দিনের কাজটি ঠিক করেনি। পূর্বের সালিসের জরিমানার টাকাও মনির পরিশোধ করেনি বলে নিশ্চিত করেন মিজানুর রহমান।
মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ও হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ জয়নাল আবেদীন-২ বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও ছেলের সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত