• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

চাঁদপুরের নৌ এসপি কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে জাটকা রক্ষায় মেঘনায় সাঁড়াশি অভিযান

১ মাস ২২ দিনে ৪২৭ জেলে, ২৪ কোটি ৬৪ লাখ বর্গমিটার কারেন্ট জাল, ১শ' ৩৭টি জেলে নৌকা আটক

প্রকাশ:  ২৪ এপ্রিল ২০২১, ১৭:৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

ইলিশ অভয়াশ্রমে জাটকা ও ইলিশসহ সকল প্রকার মৎস্য আহরণ প্রতিরোধে চাঁদপুর নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল ২৩ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলেও নৌ পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৪টি স্পীড বোট টিম নিয়ে নদীতে জাটকা রক্ষায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে দেখা গেছে।


চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে শুরু করে পুরাণবাজার হরিসভা, রণাগোয়াল, রামদাসদী, বহরিয়া, হরিণাসহ ইব্রাহিমপুর চরের আলুবাজার মেঘনা নদীতে ইফতারের আগ পর্যন্ত তিনি এ অভিযান পরিচালনা করেছেন।

 


এ সময় ৭টি জেলে নৌকার ভাসমান বয়া সংযুক্ত বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল ও সুতার জাল উদ্ধার করা হয়েছে। নৌ পুলিশের বড় ধরনের অভিযান দেখে জেলেরা জাল ফেলে নিজেদের তীরবর্তী এলাকায় চলে যায়।

 


জানা যায়, চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের ১২টি নৌ থানা ও ফাঁড়ির প্রায় ১শ' ৭০ জন নৌ পুলিশ সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে জেলা টাস্কফোর্সের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ১ মার্চ থেকে ২২শে এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১ মাস ২২দিনে এখন পর্যন্ত ৪২৭ জন জেলে, ২৪ কোটি ৬৪ লাখ বর্গমিটার কারেন্ট জাল, ১শ' ৩৭টি জেলে নৌকা নৌ পুলিশ সদস্যগণ বিভিন্ন সময়ের অভিযানে আটক করেছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে অসাধু জেলেদের কারেন্ট জাল ও জাটকা নৌকাসহ আটক করে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্টে সাজা দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

 


জাটকা সংরক্ষণ ও সাঁড়াশি অভিযান প্রসঙ্গে চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, জেলে কার্ডগুলো অপেশাদার জেলেদের কাছে রয়েছে। অর্থাৎ অনেকেই জেলে ছিলো কিন্তু এখন আর জেলে পেশায় না থেকে অন্য পেশায় চলে গেছে। তবুও তারা সরকারি খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে। এতে করে বর্তমানে পেশাদার জেলেরা সরকারি চাল পাওয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই তারা বাধ্য হয়েই নদীতে নামছেন বলে আমাদের জানাচ্ছেন। এজন্যে জেলে কার্ডের আওতায় কারা রয়েছে তা পুনরায় হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

 


তিনি আরও বলেন, অন্য বছরের চেয়ে নদীতে নৌ পুলিশের অভিযান এবার অনেকটাই সার্থক। যেজন্যে নদীতে তেমন একটা অসাধু জেলে নেই বললেই চলে। তবুও আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। জাতীয় সম্পদ ইলিশের জাটকা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 


এ সময় চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন সিকদার, সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ হেলাল উদ্দিন, চাঁদপুর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জহিরুল হক, আলুবাজার নৌ পুুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান, হরিণা ফেরিঘাট নৌ পুুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মোঃ নাসিম এবং সঙ্গীয় নৌ পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

 


উল্লেখ্য, পদ্মা-মেঘনায় মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত মোট ৭০ কিলোমিটার এলাকায় নদীতে জাটকাসহ সব রকমের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময় জাটকা ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও কিছু অসাধু জেলে চক্র নদীতে জাটকা শিকারের চেষ্টা চালায়। যাদেরকে প্রতিহত করতে জেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে জেলা টাস্কফোর্স নদীতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত