• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ৩ মাঘ ১৪২৭
  • ||
  • আর্কাইভ

ব্রেকিং নিউজ

প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত শিশু হামিমের নেপথ্যের কথা

প্রকাশ:  ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

চাঁদপুরের গাছ তলায় এক মামলাবাজ ও দুষ্ট পরিবারের কাছে জিম্মি থাকায় নিজের প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত হামিম নামের এক শিশু। যে খারাপ প্রকৃতির পরিবারের মিথ্যে মামলার হয়রানিতে ভোগছেন ওই এলাকার বিভিন্ন পরিবারের লোকজন। আর তাদের কাছেই পিতার প্রকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে দু, পরিবারের টানা হেছরায় রয়েছেন অসহায় নিষ্পাপ শিশু হামিম।
শিশু হামিমের এমন অধিকার  ঢাকতে এবং মায়ের স্নেহ ভালোবাসা থেকে দুরে রাখতে তাকে ওই পরিবারের কাছে জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিতে মিথ্যে নাটক সাজিয়ে নানা অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮ নং বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা গ্রামের হাফেজ মোঃ ইউনুছ মুন্সির পরিবার। এমনই অভিযোগ শিশু হামিমের নানা আব্দুল কাদির গাজী ও তার পরিবারের। এ নিয়ে গত ১৭ নভেম্বর  শনিবার  আব্দুল কাদির গাজী ও তার মেয়ে এবং ছেলেকে জড়িয়ে তারা তাদের নিজ বাড়িতে ভাংচুর করে মিথ্যে নাটক সাজিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেন। যা সম্পর্ন সাজানো নাটক বলে দাবি কাদির গাজীর পরিবার।

শিশু হামিমের নানা আব্দুল কাদির গাজী জানায়, গাছতলা গ্রামের হাফেজ মোঃ ইউনুছ মুন্সি নামধারী হলেও তিনি একজন চরিত্রহীনা ও খারাপ প্রকৃতির লোক। তিনি এর আগে এলাকায় বহু ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন এবং বর্তমানেও অনেকের সাথে মামলা চলমান। এমনকি তার এমন চরিত্রের কারনে তাকে এলাকার অনেক মসজিদ থেকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে বাদ দিয়েছে।
  তিনি জানান,  আজ থেকে ১৫/২০ বছর আগে তার প্রথম স্ত্রীকে শারিরীক নির্যাতন করার কারনে একসময় তার প্রথম স্ত্রী মারা যায়। তারপর সে একই এলাকার মনির গাজীর স্ত্রী নাজমা বেগমকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তার বড় ছেলে ইলিয়াসের সাথে নাজমা বেগমের অবৈধ সম্পর্ক হয়। তারপর ইউনুছ মুন্সি তার ছেলে ইলিয়াসকে বিয়ে করিয়ে দেন। তবুও তার স্ত্রী নাজমা বেগমের  সাথে  ছেলের এমন অবৈধ সম্পর্কের  অবসান হয়নি। এরফাঁকে ইউনুছ গাজির ছোট ছেলে মোঃ ইসমাইলের সাথে আব্দুল কাদির গাজীর মেয়ে কুলসুমা আক্তারের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের এক দেড় বছরের মাথায় তাদের ঘরে হামিম নামে ওই ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।
এদিকে ইউনুছ মুন্সির স্ত্রী নাজমা বেগম ও ছেলে ইলিয়াসের এমন অবৈধ সম্পর্কের কথা পারিবারের মাঝে জানাজানি হলে এ নিয়ে তার দুই পুত্রবধূ অনেক প্রতিবাদ করেন। তাদের এমন প্রতিবাদের কারনে ইউনূছ মুন্সির মেয়ে ফাতেমা বেগম মায়ের পক্ষ নিয়ে তার দু, ভাবির সাথে প্রায় ঝগড়াঝাটি করতেন।  এমন কি তাদেরকে মারধর করতেন বলেও কাদির গাজি পরিবারের অভিযোগ। ননদের এমন মারধরের শিকার হয়ে এমন অন্যায় অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দুই ছেলের বউ যার যার বাপের বাড়িতে চলে যায়।

পরবর্তীতে কুলছুমা বেগম শাশুড়ির এমন অবৈধ সম্পর্কের কারনে শ্বশুর বাড়িতে যেতে অপরাগতা জানালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শালিস বৈঠক করে  তালাকের মাধ্যমে  তা মিমাংসা করেন।
বৈঠকে সিন্ধান্ত হয় কুলসুমার শিশু সন্তান হামিম তার মায়ের কাছে থাকবে এবং তার খরচ বাবদ তার পিতা তাকে  প্রতিমাসে ৬ হাজার টাকা করে দিবে। কিন্তু কয়েক মাস যেতেই কুলসুমার ননদ সে টাকা দেয়ার ভয়ে শিশু হামিমকে তিনি নিজেই লালন পালন করবে বলে তাদের কাছে নেয়ার জন্য জোর করেন। সর্বশেষ গত ১৬ নভেম্বর শুক্রবার কুলসুমা আক্তার তার সন্তানের জন্য বিভিন্ন খাবার নিয়ে
চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস একটি মাদ্রাসায়ু গেলে তার ননদ ফাতেমা বেগম তাকে সেখান থেকে মারধর করে তারিয়ে দেন  এবং কুলসুমার সাথে থাকা স্বর্নের হার ও নগদ ৯ হাজার ৭, শ টাকা নিয়ে যায়। এমনকি ফাতেমা বেগম সন্ধায় বাড়িতে গিয়ে ভাংচুর করে মিথ্যে নাটক সাজিয়ে তার ভাই শরীফ গাজী ও পিতা আব্দুল কাদির গাজিকে জড়িয়ে মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে আব্দুল কাদির গাজী বলেন, তারা আমাকে এবং আমার ছেলেকে জড়িয়ে ভাংচুরে যে মিথ্যে নাটক সাজিয়েছে তা তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্যটা বেরিয়ে আসবে। তারা যে সময় এবং তারিখ দিয়ে আমরা ভাংচুর করেছি বলে অভিযোগ করেছেন, ওই সময় আমি এবং আমার ছেলে বালিয়ায় ছেলের হাতে বাবা খুনের ঘটনার ঝামেলায় চাঁদপুর মডেল থানায় ছিলাম। তাই তাদের এমন মিথ্যে অভিযোগের বিরুদ্ধে আমিও চাঁদপুর মডেল থানায়,  একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার এস আই অনুপ চক্রবর্তী সর্ঙ্গীয়ফোর্স নিয়ে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তাই এমন দুষ্ট পরিবারের অন্যায় অত্যাচার ও জুলুম থেকে রক্ষা পেয়ে শিশু হামিম যেনো তার প্রকৃত অধিকার ফিরে পান সেজন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন ভোক্তভোগী পরিবার।