• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩, ১৫ চৈত্র ১৪২৯
  • ||
  • আর্কাইভ

ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার ‘বীর নিবাস’ নির্মাণে বাধা

ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

প্রকাশ:  ২১ আগস্ট ২০২২, ১৪:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অস্ত্র হাতে পাকবাহিনীর মুখোমুখি হয়ে নিজের মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে পারলেও স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসে সেই মুক্তিযোদ্ধা নিজের পৈত্রিক ভূমি রক্ষা করতে পারছেন না পাশর্^বর্তী প্রতাপশালীর কারণে। অসহায় এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘বীর নিবাস’ প্রকল্পে একটি ঘর পেলেও তা নির্মাণে বাধা দেয়ায় অবশিষ্ট থাকা ভিটেমাটিও হারানোর অবস্থায় পৌঁছেছে। ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের আষ্টা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা খোকন চন্দ্র সরকারের পরিবারের চিত্র এটি।
স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা জানান, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খোকন চন্দ্র সরকার। মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হলেও খোকন সরকার দারিদ্রতা জয় করতে পারেননি। ফলে নিজের ভিটেমাটিটুকু ছাড়া আর সবটুকু সম্পদই পার্শ^বর্তী আওয়াল চৌধুরী গংয়ের লোলুপ দৃষ্টিতে খুইয়েছেন। জরাজীর্ণ ঘরের স্থানে সর্বশেষ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার প্রকল্প বীর নিবাসের একটি ঘর বরাদ্দ পান তিনি। কিন্তু প্রশাসনিক সকল কাজ শেষে ঠিকাদার বীর নিবাস প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরই বিপত্তি ঘটে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাঙাচোরা ঘরটি ভেঙ্গে সেই স্থানে ঠিকাদার বীর নিবাসের কাজ শুরুর পর কথিত প্রভাবশালী আদালতের মাধ্যমে ওই জায়গার উপর ১৪৫ ধারা জারি করে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় বীর নিবাসের নির্মাণ কার্যক্রম।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানায়, বীর নিবাস নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ সকল কাগজাদী দেখেই বীর নিবাসের ঘর তৈরির অনুমোদন দেন। কিন্তু প্রভাবশালী আনোয়ার চৌধুরী গং আদালতকে এটি প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার প্রকল্প বীর নিবাস বিষয়ে কিছুই জানায়নি। ফলে গত ১১ আগস্ট থেকে ভবন নির্র্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের অস্তিত্ব।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্বাধীনতার পূর্ব থেকে খোকন চন্দ্র সরকার গং বসবাস করছেন গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের আষ্টা গ্রামে (আষ্টা মৌজা খতিয়ান ৫৬৪ দাগ নং ৬৭০ জমির পরিমান ৬ শতক) তার নিজ সম্পত্তির উপর। বীর নিবাস প্রকল্পের নির্মাণ কাজ গত ৬ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত চললেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা বন্ধ রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা খোকন চন্দ্র সরকার জানান, আমরা স্বাধীনতার পূর্বে থেকে এখানে বসবাস করি। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী আব্দুল আওয়াল চৌধুরী, আনোয়ার  হোসেন চৌধুরী, আব্দুর রহিম চৌধুরী গং পুরো বাড়ি দখল করার জন্যে আমার এক ভাইয়ের জমি কৌশলে ক্রয় করেন। তারপর থেকেই তারা আমাদের বাড়ি ছাড়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় এবং আদালতে মামলাও করে। আদালতে আমি তিনবার রায় পেয়েছি। তারপরও তারা বসে থাকেনি বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আমাদের ঘর না থাকার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীর নিবাস প্রকল্প দেয়। সম্প্রতি ভাঙাচোরা ঘরটি সরিয়ে ভবন তৈরির সময়ে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের হয়রানি শুরু করে। আমাদের কাজ বাধা প্রদান করে বন্ধ রেখেছে।
তিনি আরো জানান, আবাসন প্রকল্প যখন আসে, তখন ভূমি অফিস থেকে যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে প্রভাবশালীরা আমাকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে। আমি ইতিমধ্যেই চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দারস্থ হয়েছি। যুদ্ধ করেছি দেশের মাটি রক্ষায়, এখন নিজেই ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় রয়েছি। এ ব্যাপারে আনোয়ার চৌধুরী গংয়ের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার সরোয়ার হোসেন জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে সহকারী কমিশনারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে শুনানির সময়ে  প্রভাবশালীদের এই হীন কাজের বিরোধিতা করেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমুন নেছা জানান, সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সর্বাধিক পঠিত