• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে ফরিদগঞ্জে কৃষকদের স্মারকলিপি

প্রকাশ:  ১২ জুন ২০২১, ১০:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

কৃষি, কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের রক্ষায় ১৫ দফা বাস্তবায়নে ঘোষিত বাজেটের মধ্যে উন্নয়ন বাজেটের ৪০ শতাংশ কৃষিখাতে বরাদ্দের দাবিতে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখা অর্থমন্ত্রী বরাবর ইউএনওর মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সংগঠনের তাবারক উল্ল্যা, মোশারফ হোসেন, জিএম বাদশার নেতৃত্বে লোকজন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরির মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন।
স্মারকলিপিতে তারা বলেন, করোনার আক্রমণে দেশের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ হলো কৃষক, ক্ষেতমজুর ও কৃষিজীবী মানুষ। দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ৬০/৭০ ভাগ মানুষ ক্ষেতমজুর, দিনমজুর। প্রকৃত পক্ষে ক্ষেতমজুর দিনমজুরই গ্রামীণ কৃষির প্রাণ। অর্থনীতিতে একক খাত হিসেবে কৃষির অবদান সবচেয়ে বেশি এবং কর্মসংস্থানেরও বৃহৎ ক্ষেত্র কৃষি। সরকার তা স্বীকারও করে এবং বাজেট অধিবেশনে বাম্পার ফলনের জন্যে সংসদে অর্থমন্ত্রী কৃষকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। অথচ বাজেটে কৃষি কখনোই অগ্রাধিকার পায় না। কৃষি উপকরণের নিয়ন্ত্রণ সরকার কর্পোরেট পুঁজির মালিকদের হাতে ছেড়ে দেয়ায় সার, বীজ, কীটনাশকসহ সকল কৃষি উপকরণ কৃষককে চড়া মূল্যে কিনতে হয়। ফলে কৃষি ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। আবার ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষক কিনতেও ঠকে বেচতেও ঠকে। এভাবেই কৃষক দিনেদিনে লোকসান দিতে দিতে নিঃস্ব হতে থাকে। প্রায় প্রতি বছর ঝড়, বন্যা, খরাসহ নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধান, ভুটা, গম, আলুসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়। কৃষি ফসলের বাইরে ছোট, মাঝারি পোল্ট্রি, ডেইরি, হ্যাচারি কৃষকরাও আজ সংকটগ্রস্ত। ওষুধ, খাদ্যের অতিরিক্ত মূল্যের কারণে প্রতি বছরই তারা ক্ষতির শিকার হয়। অনেকে পুঁজি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়। ক্ষমতাশালী নেতা, দালাল, ফড়িয়াদের সিন্ডিকেটের ইশারায় বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় না, কৃষকের কষ্টের ফল তারাই আত্মসাৎ করে। সরকারি খাদ্যগুদামেও সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষক ধান বেচতে পারে না, সেখানেও তাদেরই দৌরাত্ম্য। কৃষিতে সারাবছর কাজ থাকে না। ফলে ক্ষেতমজুর ও গরীব কৃষকরা মৌসুমী কাজের বাইরের সময়টা শহরে গিয়ে রিক্সা, অটো, ভ্যান চালায়, নির্মাণসহ বিভিন্ন ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে পরিবারের জন্যে উপার্জন করে। কিন্তু গত দেড় বছরে কয়েক দফা লকডাউনে এই মানুষগুলো সীমাহীন সংকটের মধ্যে পড়েছে। এখন লকডাউন উঠে গেলেও তাদের সংকট কাটেনি, প্রত্যেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বেশির ভাগ সময় ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষক উৎপাদন খরচও তুলতে পারে না। অথচ বাজারে চাল-ডাল, শাক-সবজি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধের অগ্নিমূল্য। একটা নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে জমিতে কাজ থাকে না, আবার করোনার কারণে বিকল্প অনেক কাজ বন্ধ হওয়ায় লক্ষ লক্ষ কৃষিজীবী গরিব মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা ভাঙ্গা ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে কোনোরকম মাথা গুঁজে দিন অতিবাহিত করছে। উপকূলীয় জেলাগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রতিনিধির অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে টেকসই বাঁধ নির্মাণ হয় না। ফলে প্রতি বছরই বন্যা ও জোয়ারের পানিতে ঐসব অঞ্চলের কৃষি এবং মৎস্য ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই বছরেও বাঁধ রক্ষার জন্য মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানব দেয়াল তৈরি করেছিলো। তাতেও ফসল, ঘরবাড়ি রক্ষা হয়নি। এই পরিবারগুলোকে দ্রুত জরুরি ত্রাণের আওতায় নিয়ে আসা দরকার। বাড়িতে খাবার না থাকায় এবং এনজিওর কিস্তি যন্ত্রণায় মানুষ রিক্সার হ্যান্ডেল ধরে বা কাজ-খাদ্যের খোঁজে শহরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। আর যারা শহরে ঝুঁকি নিয়ে রিক্সা চালাতে যায় তাদের বেশির ভাগ ক্ষেতমজুর ও গরিব কৃষক। অনভিজ্ঞ এসব লোক ট্রাফিক আইন না জানার কারণে পুলিশ প্রশাসন এদের রিক্সা, অটো ভেঙ্গে দেয়, জরিমানা করাসহ নানান অমানবিক কাজ করে। তারপরও মানুষ কাজের খোঁজে শহরে ভীড় করছে। এসব ঘটনা থেকে স্বাভাবিকভাবেই বুঝা যায় মানুষ কতটা নিরূপায় হলে এত ঝুঁকি থাকার পরও রাস্তায় আসতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে দুর্নীতি, লুটপাট, অবহেলায় চিকিৎসার বেহাল পণ্য তৈরি হয়েছে। করোনার আক্রান্ত হলে গরিব কৃষক, ক্ষেতমজুর মজুর, নি¤œ আয়ের মানুষের মৃত্যু হয় অনিবার্য পরিণতি। সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব ঔষধের ব্যবস্থা না থাকায় একেকজন করোনা রোগীর চিকিৎসায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। আর প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় সরকারি হাসপাতালের ১০ গুণেরও বেশি। যা বহন করার সামর্থ্য দেশের কোটি কোটি মানুষের নেই। এ থেকে প্রমাণিত হয়, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর। কর্পোরেট ওষুধ ব্যবসায়ীর মুনাফার স্বার্থে গোটা দেশের মানুষকে দ্রুত টিকা প্রদান কার্যক্রমকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে সরকার। টিকা না নিতে পেরে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অবিলম্বে অন্যান্য দেশ থেকে টিকা আমদানি করে এবং দেশেই টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা করে সকল মানুষকে টিকা প্রদানের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। করোনার বিস্তৃতি রোধ ও আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য জেলায় জেলায় আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করে সারাদেশে প্রতিদিন কমপক্ষে এক লক্ষ কোভিড টেস্ট করা, প্রতিটি জেলা হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার বেড সংখ্যা বৃদ্ধি ও কমপক্ষে ৫০টি আইসিইউ বেড স্থাপন, হাইফ্লো অক্সিজেনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তাই কৃষি-কৃষক-ক্ষেতমজুরদের রক্ষায় আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় উন্নয়ন বাজেটের ৪০% কৃষি খাতে বরাদ্দ দিয়ে নি¤েœাক্ত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।