• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

বৃহৎ জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই: ড. কামাল

প্রকাশ:  ১১ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

দেশ আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে মন্তব্য করে গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বৃহৎ জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় ঐক্যের পক্ষে। আমি ঐক্য চাই, সারাজীবন ঐক্য চেয়েছি। আজ ১০ জানুয়ারি, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আমার জীবনের স্মরণীয় দিন। আমি বঙ্গবন্ধুর সাথে দেশে এসেছিলাম।’

সোমবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে “মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ভূলুণ্ঠিত” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বৃহৎ জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে ড. কামাল বলেন, আপনারা উদ্যোগ নিন, আমি আপনাদের সাথে আছি। দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে ঐক্যের কথা আবার বলছি। দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে ঐক্য করুন। দেশ ও জাতি আজ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

রাষ্ট্রের এ সংবিধান রচয়িতা আরও বলেন, সংবিধানে স্পষ্ট লেখা আছে, দেশের মালিক জনগণ। তাই দেশ জনগণের হাতেই তুলে দিতে হবে। নির্বাচনে কালো টাকার খেলা বন্ধ করতে হবে।

jagonews24

সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে অনুরোধ বঙ্গবন্ধুকে আপনার দলীয় সম্পত্তি বানাবেন না, বঙ্গবন্ধুকে একটা পরিবারের নেতা বানাবেন না, দলীয় নেতা বানাবেন না। সবচেয়ে দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় আমাদের যে পুলিশেরা মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়েছিল তারাই আজ মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য নিষেধাজ্ঞা পাচ্ছে। যে সামরিক বাহিনী রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা সেই বাহিনীর প্রধান নিষেধাজ্ঞা পাচ্ছেন, এগুলো কেন হচ্ছে! কার জন্য হচ্ছে?

তিনি বলেন, কোটার নামে জাতিকে বিভক্ত করা হচ্ছে। আমরা যুদ্ধ করেছি কোটার জন্য নয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেন, কিন্তু তাদের সন্তান, নাতি-নাতনিদের সুবিধা নেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। এটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভক্ত করার একটি প্রক্রিয়া।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বলেন, আপনারা প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাণিজ্য করছেন, প্রতিনিয়ত অসম্মান করছেন, তাকে দলীয়করণ করছেন, পরিবারতান্ত্রিক করছেন। বঙ্গবন্ধুকে এমনভাবে ছোট করা হচ্ছে যেন তিনি একটা পরিবারের লোক, একটা দলের লোক। মুজিব কোটকে আজ শকুনের কালো কোটে পরিণত করেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাই আগে পরলেও এখন মুজিব কোট পরি না। এই কোটকে পণ্যে পরিণত করা হয়েছে।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিশেষ কিছু শ্রেণি বসে আছে লুণ্ঠনকারীদের পক্ষে কথা বলার জন্য। আজ সব বুদ্ধিজীবী বেচা-কেনা হয়ে গেছে। সত্যিকারের বুদ্ধিজীবীদের কথা বলতে দেওয়া হয় না। শক্তিশালী সিভিল সোসাইটি গড়তে দিচ্ছে না, সিভিল সোসাইটি না থাকলে একটা রাষ্ট্র থাকে না। আজ কারও কোথাও নিরাপত্তা নেই, মানবাধিকার নেই, বাকস্বাধীনতা নেই।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মোহসীন রশিদ, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের, সভাপতি পরিষদ সদস্য মেজর (অব.) আসাদুজ্জামান বীর প্রতীক, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রওশন ইয়াজদানী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক তাজুল ইসলাম এবং ছাত্র সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সানজিদ রহমান শুভ।

সর্বাধিক পঠিত