• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭
  • ||
  • আর্কাইভ

ব্রেকিং নিউজ

চাঁদপুরে ৩৯১টি দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ উদ্বোধন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করেই আমাদের বাঁচতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:  ১৪ অক্টোবর ২০২০, ১০:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পশুত্ব বেড়ে গেলেই মানুষ ধর্ষক হয়ে ওঠে। এই পাশবিকতার বিস্তাররোধে আমরা আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করেছি। যেহেতু এখন পার্লামেন্ট চলছে না, তাই এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এভাবে যেকোনো সংকটজনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি।

গতকাল ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলায় ৩৯১টি দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ উদ্বোধন করেন। চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণ কার্যালয়ের আয়োজনে চাঁদপুর থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ গণভবনের সাথে যুক্ত হন। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে আমাদের দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিনিয়ত আসবে। এগুলো মোকাবেলা করেই আমাদের বাঁচতে হবে। সেই জন্য আমাদের প্রস্তুতিও আছে। বিভিন্ন সময়ে সাফল্যের সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবেলা করে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ছোট্ট ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে সাতশর বেশি নদী প্রবাহিত। এই জায়গায় দুর্যোগ মোকাবেলা করে জান-মাল বাঁচানো, মানুষকে সতর্ক রাখাটাই বড় কাজ। আমাদের ৫৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করছেন। এর মধ্যে মহিলা স্বেচ্ছাসেবকরাও যথেষ্ট ভূমিকা রাখছেন। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।

সম্প্রতি দেশে অস্বাভাবিক হারে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার মন্ত্রিসভা ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদ-ের বিধানে সায় দেয়। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশে সই করেছেন। আজ থেকেই দেশে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চালু হলো।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় আলোচিত ধর্ষণ প্রসঙ্গ ছাড়াও কোভিড-১৯, দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন সফলতা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটা সময় দেশে অনেক অবহেলিত, অনগ্রসর মানুষ ছিল। সমাজে যাদের কোনো স্থান ছিল না। বলতে গেলে তারা ছিল অপাঙ্ক্তেয়। আমরা কিন্তু তাদের স্বীকৃতি দিয়েছি। তাদের ঠিকানা হয়েছে। আমরা হিজড়া থেকে শুরু করে সবাইকে স্বীকৃতি দিয়েছি। সমাজে এখন তাদের একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে। আপনারা জানেন, চা শ্রমিকদের অন্য দেশ থেকে আনা হয়েছিল। তাদের কোনো দেশ ছিল না, ঠিকানা ছিল না। বঙ্গবন্ধু তাদের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন।

দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপকূলে ব্যাপকহারে গাছ লাগিয়ে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা, দুর্যোগ সহনীয় ঘরবাড়ি তৈরি করার মতো কার্যক্রম আমরা বাস্তবায়ন করছি। আমরা ড্রেজিং করে, খাল খননের মাধ্যমে নদীগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। কারণ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে দেশের সার্বিক উন্নয়নই আামাদের লক্ষ্য। আমাদের জলাধার, নদী-নালা, খাল-বিলের প্রবাহ যেন বন্ধ না হয়। এগুলো ঠিক না থাকলেই কিন্তু জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সব সময়ই ভেবেছি কীভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায়। কারণ ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা সবচেয়ে জরুরি। এগুলো নিয়ে আমাদের বৈজ্ঞানিকরা গবেষণা করেছেন। আমরা লবণাক্ততা সহনশীল ধান উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। এখন সারাবছরই নানা ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এটাও কিন্তু গবেষণার ফসল। সেইভাবে বিদেশি অনেক ফলও বাংলাদেশে উৎপাদন করতে পারছি। প্রচুর মাছ, বিশেষ করে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ২৪ লাখ মানুষকে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাই। কীভাবে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়, বাংলাদেশ সে পথ দেখাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলসহ সারাদেশে বেশি করে গাছ লাগানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। সবুজ বেষ্টনীর মাধ্যমে দেশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গণভবনের প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান শেষ হবার পর চাঁদপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।

উল্লেখ্য, চাঁদপুরে ৩৯১টি বাসগৃহ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিটি গৃহ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা।