• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||
  • আর্কাইভ

ব্রেকিং নিউজ

শিক্ষকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা

প্রকাশ:  ০৪ জুন ২০২০, ১৭:৫৬
অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার
প্রিন্ট
২০১৯ সালে ২৪ জানুয়ারী বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন (বিএনসিইউ) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা দীপু মনি বলেন। “মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য পরিকল্পনামাফিক এগোতে হবে। শিক্ষায় বড় সাফল্য রয়েছে। সেগুলো ধরে রেখে আরও সামনে এগিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তিনি আরো বলেন “গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। পাঠ্যসূচির মানও বাড়াচ্ছি, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের কাজ “। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এটি কেবল একটি চাকরি নয়, এটি মানুষ গড়ার কাজ। তাই সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য স্মরণে রাখতে হবে। অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, কেবল ভালো ফল নয়, সন্তানদের ভালো মানুষ হয়ে গড়ে ওঠা প্রত্যাশা করুন ”। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর সেই বক্তব্যের সূত্রেই আমার এ লেখা শুরু করছি। শিক্ষার প্রধান নিয়ামক শক্তি হলো শিক্ষক। শিক্ষক সম্পর্কে পৃথিবীর মনিষীগণ তাঁদের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গী থেকে মত প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। ১। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র; শিক্ষকের ছাত্রত্ব গ্রহণে তার মনের তারুণ্য নষ্ট হতে পারে না বরং তিনি সবসময় ছাত্রদের সুবিধা-অসুবিধা ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হবেন। ২। লেখক ড. হেলেন কালডিকট বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষকরা হলেন সমাজের সবচেয়ে দায়িত্বশীল ও দরকারি সদস্য, যাঁদের পেশাগত অবদান পৃথিবীর ভাগ্যকে প্রভাবিত করে।’ ৩। ’ স্যার জন এডামস বলেছেন, ‘শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর।’ ৪। পার্সিভেল রেন বলেছেন, ‘শিক্ষক শিশুর বন্ধু, পরিচালক ও যোগ্য উপদেষ্টা এবং চরিত্র গঠনের নিয়ামক। ৫। নোবেল বিজয়ী শিক্ষা অধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজাই বলেছেন, ‘একটি শিশু, একজন শিক্ষক, একটি বই, একটি কলম পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে।’ ৬।মোস্তফা কামাল আতার্তুক বলেছেন, ‘একজন শিক্ষক একটি মোমবাতির মতো যিনি নিজের জীবন দিয়ে অন্যের জীবনকে আলোকিত করেন।’ ৭।এ পি জে আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ‘শিক্ষকরাই আলোকিত মানব সমাজ বিনির্মাণ করতে পারেন। তাই, একজন শিক্ষককে হতে হবে সৃজনশীল মনের অধিকারী।’ মানসম্মত শিক্ষার উপাদান হলো মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মানসম্মত শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী। এ পরিসরে আমি মানসম্মত শিক্ষক নিয়ে আলোচনা করবো। শিক্ষার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো শিক্ষক। অন্যভাবে বল্লে বলতে হবে মানসম্মত শিক্ষার মূল উপাদান হলো মানসম্মত শিক্ষক, মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ। এই তিনটি উপাদানের মধ্যে শিক্ষকই একমাত্র নিয়ামক যার উপর অন্যান্য উপাদানের তথা শিক্ষার ভাল খারাপ দিক নির্ভর করে। ভিন্নভাবে বল্লে বলা যায় শিক্ষক হলো আমাদের সমাজের বিবেক। তাই সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা সবার উপরে কিন্তু কালের আবর্তনে শিক্ষকের মর্যাদা আগের মত নেই এটি বলতেই হবে। এর নানাবিধ করাণও রয়েছে। শিক্ষার মূল চালিকা শক্তি শিক্ষক , সেই চালিকা শক্তিতেই যদি ঘুনে ধরে তবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায়। তাই শিক্ষকদের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে জাতিসংঘ ১৯৯৪ সাল থেকে ৫ অক্টোবর তারিখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন শুরু করে। শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিবছর নানা প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করার মাধ্যমে এই দিবস উদযাপিত হয়। ২০১৯ সালের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল- “Young Teachers: The future of the Profession” (তরুণ শিক্ষক : পেশার ভবিষ্যত গন্তব্য)। যা নিয়ে অনেক আলোচনা সভা সেমিনার হয়েছে। সে আলোকে শিক্ষকদের কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয় উপস্থাপন করছি। ১। ত্যাগ স্বীকার : একজন শিক্ষককে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। কিছু পাওয়ার আশায় শিক্ষকতা করলে তা আয়-উপার্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু শিক্ষকতার উদ্দেশ্য আয়-উপার্জনের অনেক উর্দ্ধে। একজন শিক্ষককে প্রতিনিয়ত ত্যাগ স্বীকার করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ২। জ্ঞানের ভান্ডার : একজন শিক্ষককে হতে হয় শিক্ষার্থী সহায়ক। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান আহরণের লক্ষ্যে তাঁকে সবসময় সচেষ্ট থাকতে হয়। শিক্ষীর্থীদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করার জন্য্ প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপকরণ সরবরাহ করার ক্ষেত্রে শিক্ষকের অবদানের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। ৩। দুরদর্শীতা : শিক্ষককে হতে হয় দূরদর্শী জ্ঞান সম্পন্ন এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গী সম্পন্ন। শিক্ষক তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে অভিযোজনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করেন