• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

অসুস্থ মায়ের নাশতা আনতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার এক শিশু

প্রকাশ:  ১৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

মা অসুস্থ, তাই সকালে বাসায় নাশতা তৈরি হয়নি। ১০ বছর বয়সী মেয়েশিশুকে মা বললেন বাসার সামনের দোকান থেকে নাশতা নিয়ে আসতে। মায়ের কথামতো সে নাশতা কিনে ফিরার পথে তার দিকে কুনজর পড়ে পাশের বাড়ির জেঠা সম্পর্কিত মাসুদ মিজির (৫৫)।

বিকৃত মানসিকতার মাসুদ মিজি ফুসলিয়ে শিশুটিকে তার নিজের বাড়ির গেটের ভেতরে ডেকে নিয়ে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। এ সময় সে ফুল ভলিউমে টিভি ছেড়ে মেয়েটির জামা খুলে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এ সময় মাসুদ মিয়ার ভয়ঙ্কর আচরণে মেয়েটি চিৎকার দিলে মেয়েটিকে টাকা দিয়ে বলে, কাউকে কিছু বলবি না। মেয়েটি দৌড়ে গেটের বাহিরে এসে মাটিতে পড়ে যায়। এরপরেই মাসুদ মিজির চরিত্র উন্মোচিত হয়ে পড়ে এলাকাবাসীর কাছে।

বৃহস্পতিবার ঘৃণ্য ঘটনাটি ঘটে হাজীগঞ্জ ৪নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের মিজি বাড়িতে। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মেয়েটির মা বলেন, চিৎকার ও কান্নায় শিশুটিকে ছেড়ে দেয় মাসুদ মিজি। এ বিষয়ে কথা কাউকে না বলার জন্যে তাকে হুমকি-ধমকি দেয় এবং টাকা দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শিশুটি টাকা না নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার ঘর থেকে বের হয়ে আসে। রাস্তায় শিশুটিকে কান্নারত অবস্থায় আসতে দেখে তার মা ও স্থানীয়রা কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে শিশুটি সবকিছু খুলে বলে। এরপরেই মাসুদকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয় লোকজন।

স্থানীয়রা মাসুদ মিজিকে আটক করে হাজীগঞ্জ থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ জয়নাল আবেদিন-১ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে আটক করে এবং শিশুটিকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে থানা হেফাজতে থাকা মাসুদ মিজি সংবাদকর্মীদের কাছে ঘটনাটি অস্বীকার করেন এবং এটি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। মাসুদ মিজি হাজীগঞ্জ বাজারের পৌর হকার্স মার্কেটে ব্যবসা করেন। ঘটনার সময় মাসুদ মিজির স্ত্রী-সন্তানরা ঘরে ছিলো না। তারা অন্যত্র বেড়াতে গিয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, শিশুটি ও তার পরিবারের সাথে কথা বলেছি এবং প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আসামীকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত