• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭
  • ||
  • আর্কাইভ

ব্রেকিং নিউজ

কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যকার বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া

ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

প্রকাশ:  ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ১৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে অধিকাংশ কেন্দ্রেই লাইন ধরে পুরুষ ও নারীদের ভোট দিতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে ১নং ওয়ার্ডের চরবসন্ত সপ্রাবি কেন্দ্রে, ২নং ওয়ার্ডের কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, ৫নং ওয়ার্ডের মন্তি খাঁর মসজিদের সামনের অস্থায়ী কেন্দ্রে, ৬নং ওয়ার্ডের লিটল ফ্লাওয়ার একাডেমী কেন্দ্রে, ৭নং ওয়ার্ডের কাছিয়াড়া মহিলা মাদ্রাসা কেন্দ্রে, ৮নং ওয়ার্ডের ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।


এদিকে সকাল ১০টার দিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটওয়ারী বাসস্ট্যান্ডস্থ তার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

 


সকাল ৮টায় ৪নং ওয়ার্ডের পূর্ব বড়ালি শাহজাহান কবির উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথম ভোট দেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী। ভোট প্রদানের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দিয়ে যে সম্মান দিয়েছেন, আশা করছি জনগণ বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবে। পরে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

 


এদিকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কাউন্সিলর প্রার্থীদের দ্বন্দ্ব শুরু হতে থাকে। পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের চরবসন্ত কেন্দ্রের অস্থায়ী কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হারুনুর রশিদ ও রুবেল হোসেনের সমর্থকদের মধ্যকার সংর্ঘষে অন্তত ৩জন আহত হয়। এদের মধ্যে একজনকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 


৩নং ওয়ার্ডের ভাটিরগাঁও সপ্রাবি কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী জাহিদ হোসেন বাবুল পাটওয়ারী ও ইউনুছ বেপারীর সমর্থদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। ৪নং ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। ৫নং ওয়ার্ডের মন্তি খাঁর মসজিদের সামনের কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ তুলে কাউন্সিলর প্রার্থী জাহিদ হোসেন ও এমরান হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে আধঘন্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। আত্মরক্ষার্থে আনসার সদস্যরা কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে। ৭নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলে। এ সময় কেন্দ্রের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ ও ইট-পাটকেল নিক্ষিপ্ত হয়। এতে কাউন্সিলর প্রার্থী আলী হায়দার টিপু পাঠানসহ অন্তত ১০জন আহত হয়। ৮নং ওয়ার্ডে কাউন্সিল প্রার্থীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার শিউলী হরি জানান, কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সামান্য ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

সকালে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। ৮নং ওয়ার্ডের ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা সপ্রাবি ও পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দু'টি কেন্দ্রে ব্যাপক ভোটারদের উপস্থিতি দেখে সবাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি সংবাদকর্মীদের বলেন, আপনারা দেখছেন সকাল থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে এসে ভোট দিচ্ছে। আশা করছি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।