• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
  • ||
  • আর্কাইভ

ব্রেকিং নিউজ

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আজীবন সম্মাননা পেলেন কাজী শাহাদাত

প্রকাশ:  ০৬ জানুয়ারি ২০২১, ১০:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

চাঁদপুরে সাংবাদিকতা বিকাশে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বরেণ্য সাংবাদিক কাজী শাহাদাতকে আজীবন সম্মাননা দিয়েছে চাঁদপুর প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের পঞ্চাশ বছরপূর্তি তথা সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে এই বিদগ্ধ সাংবাদিককে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। তাঁকে আজীবন সম্মাননা মেডেল, সম্মাননাপত্র এবং উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে সাংবাদিকরা অকৃত্রিম শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় তাঁর প্রতি সকল সম্মান উজাড় করে দেন। গত ৪ জানুয়ারি সোমবার চাঁদপুর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রেসক্লাবের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে তাঁকে এ আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। প্রেসক্লাবের ২০২০ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের উদ্যোগে এই সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

কাজী শাহাদাতকে আজীবন সম্মাননা মেডেল ও উত্তরীয় পরিয়ে তাঁর হাতে এক গুচ্ছ তাজা ফুলসহ সম্মাননাপত্র তুলে দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিক বিভাগের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মফিজুর রহমান এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। পাশে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ জেআর ওয়াদুদ টিপুসহ আরো বিশিষ্টজন। এ সময় তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনী পাঠ করেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন চৌধুরী। এ সময় এক আবেগঘন মুহূর্তের অবতারণা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান ছিলেন প্রেসক্লাবের ২০২০ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ এবং প্রেসক্লাবের ২০২১ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা।

জনাব কাজী শাহাদাত চাঁদপুর প্রেসক্লাবের একাধিকবার সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত সততা এবং নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। তিনি এ জেলার বহুল প্রচারিত প্রথম দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন পত্রিকাটি প্রকাশনার সময় থেকে। তাঁর হাত ধরে অর্থাৎ তাঁর কাছ থেকে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি নিয়ে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে মিডিয়া জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এমন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাঁরা জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিজ নিজ অবস্থানে আলোকিত হয়ে আছেন। এমনকি চাঁদপুর জেলায় যে সব সংবাদপত্র বর্তমানে লিডিং পর্যায়ে রয়েছে, সে সব পত্রিকায় সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যাঁরা আছেন তাঁদের অধিকাংশই জনাব কাজী শাহাদাতের হাতে গড়া সাংবাদিক। শুধু সাংবাদিকতাই নয়, চাঁদপুর বহু সৃজনশীল এবং সৃষ্টিশীল কাজের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। সে জন্যে এই গুণী সাংবাদিককে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। আজীবন সম্মাননা গ্রহণ করে কাজী শাহাদাত তাঁর অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে কৃতজ্ঞতা জানান। পুরো অনুষ্ঠানটি শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নিয়ে উপভোগ করেন। জনাব কাজী শাহাদাত যখন আজীবন সম্মাননাপত্র ও মেডেল গ্রহণ করেন তখন উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল গ্রামে পৈত্রিক নিবাস হলেও কাজী শাহাদাতের জন্ম ১৯৬২ সালের ০৫ এপ্রিল (২২ চৈত্র) কুমিল্লা জেলার লালমাই রেল স্টেশনস্থ পিতার সরকারি বাসভবনে।

কাজী শাহাদাত পেশায় একজন সাংবাদিক। আশির দশকের শুরুতেই তিনি সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। কুমিল্লার সাপ্তাহিক রংধনুতে সাংবাদিকতায় তার হাতেখড়ি। চাঁদপুরের প্রথম দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ২২ বছর যাবৎ। তার পূর্বে চার বছর যথাক্রমে নির্বাহী সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। লেখক হিসেবে কাজী শাহাদাতের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। ভ্রমণকাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত ফিচার লিখে ইতঃমধ্যে তিনি বিদগ্ধজনের প্রশংসাভাজন হয়েছেন। তিনি আশির দশকে সাহিত্য মাসিক নির্ভীক ও নির্ঝর সম্পাদনা করেছেন। সাপ্তাহিক চাঁদপুর, সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ, জেলা প্রশাসনের শহীদ দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী প্রকাশনা, চাঁদপুর জেলার ইতিহাস গ্রন্থ ও চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডিং প্রকাশনাসহ জেলার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনার কাজে সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করে সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি ক'বছর দৈনিক জনতা এবং ক'মাস টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তিনি দু'মেয়াদে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং সমঝোতা কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে একটানা দশ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ৩৯ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তাঁর কাছে হাতেখড়ি নিয়ে এবং তাঁর সাহচর্যে থেকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অনেকেই হয়েছেন সুপ্রতিষ্ঠিত।

একজন সৃজনশীল সংগঠক হিসেবে কাজী শাহাদাতের রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। তিনি পর পর বারো বছর চতুরঙ্গ ইলিশ উৎসবের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। সাহিত্য একাডেমির সাথে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে যুক্ত আছেন এবং ছয় বছর ধরে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দেড় দশক ধরে চাঁদপুর রোটারী ভবন কমিটির সেক্রেটারী। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান রোটারী ফাউন্ডেশনের সদস্য পদ লাভ করে পল হ্যারিস ফেলো (পিএইচএফ) হয়েছেন। তিনি রোটারী জেলায় গভর্নরের পরবর্তী পদমর্যাদার লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং এই পদে বছর শেষে শ্রেষ্ঠত্বের অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। গত ২০ নভেম্বর ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ৫০ বছরপূর্তি উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে দিনব্যাপী ব্যাপক অনুষ্ঠানমালা সম্পন্ন করেন। সুনামের সাথে টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটি চাঁদপুরের সভাপতি পদে পরপর ৪ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এক যুগেরও অধিক সময় ধরে চাঁদপুর পৌরসভার টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটি (টিএলসিসি)-এর মেম্বার। জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন ছাড়াও কমিউনিটি পুলিশিং চাঁদপুর অঞ্চল-৫, চাঁদপুর সাঁতার পরিষদ, চাঁদপুর সুইমিং ক্লাব, চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন, চাঁদপুর ইউনানী তিবি্বয়া (মেডিকেল) কলেজ গভর্নিংবডির সভাপতিসহ প্রতিষ্ঠিত বেশ ক'টি সংগঠনের সভাপতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০০৯ সাল থেকে এক যুগ ধরে জেলাব্যাপী পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে চলছেন। তিনি বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতি, সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর জেনারেল হাসাপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি ও মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালসহ আরো কিছু সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্য এবং অংকুর কচি-কাঁচার মেলা, চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সপ্তসুর সংগীত একাডেমি, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখা, চরিত্রগঠন আন্দোলন পরিষদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহনবাঁশি স্মৃতি সংসদসহ বেশ ক'টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা। তিনি কিন্ডারগার্টেন নামে চাঁদপুর জেলায় প্রথম প্রতিষ্ঠিত চাঁদপুর রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেন (বর্তমানে রেলওয়ে শিশু বিদ্যালয়)-এর শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক। চাঁদপুর শহরের ৩নং আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রায় ১০ বছর ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন। ইতঃমধ্যে গুণীজন হিসেবে বহু সংবর্ধনা লাভ করেছেন। সাংবাদিকতায় জাতীয় পর্যায়ে ব্র্যাক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড এবং লেখক হিসেবে জাতীয় সাহিত্য পরিষদ পদক ২০১৫ পেয়েছেন। এছাড়া ২০১০ সালে জাতীয় বিতর্ক উৎসবে আজীবন সম্মাননা পদক এবং ২০১৮ সালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক সৃজনশীল সংগঠক সম্মাননা ও ২০২০ সালে সাহিত্য মঞ্চ, চাঁদপুর কর্তৃক সাহিত্য সংগঠক হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন।

সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গন এবং সামাজিক কর্মকা-ে কাজী শাহাদাতের প্রতিষ্ঠা প্রাপ্তির পেছনে প্রখ্যাত আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অজয় ভৌমিক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া জীবনের অবদান অপরিসীম।

কাজী শাহাদাতের বাবা কাজী ছেফায়েত উল্লাহ ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার। মা জোবায়দা বেগম। তাঁরা দুজনেই প্রয়াত। স্ত্রী মাহমুদা খানম পেশায় শিক্ষক এবং একজন দক্ষ সংগঠক ও নারী নেত্রী। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

সর্বাধিক পঠিত