• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৬ মাঘ ১৪২৭
  • ||
  • আর্কাইভ

ব্রেকিং নিউজ

পুরাণবাজার হরিসভার ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক শামীম

চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের জন্যে ৪২০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে

প্রকাশ:  ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

পুরাণবাজার হরিসভা এলাকার ভাঙ্গন কবলিত শহর রক্ষাবাঁধ পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম এমপি। প্রায় ১৫ মাসের মাথায় দ্বিতীয়বারের মত তিনি গতকাল ২৪ নভেম্বর বেলা ১১টায় চাঁদপুর শহরস্থ হরিসভা এলাকার প্রমত্তা মেঘনার ভাঙ্গন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, চাঁদপুর শহর রক্ষায় সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপনারা হতাশ হবেন না। শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষায় যা যা করণীয় তা করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। ৩৩৬০ মিটার (চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে পুরাণবাজার রণাগোয়াল পর্যন্ত) শহর রক্ষা প্রকল্প নির্মাণ কাজ আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই আমরা শুরু করতে পারবো। চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের জন্যে ৪২০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই একনেকের সভায় তা অনুমোদন লাভ করবে।


তিনি বলেন, আমরা শুধু স্বপ্নই দেখি না, তা বাস্তবায়নও করি। জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজের কথা ভাবেন না। তিনি আগামী প্রজন্মের কথা ভাবেন। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনি একজন বিরল প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রমাণ আমরা পেয়েছি তাঁর কাজের মাঝে। তিনি দেশের অর্থায়নে নির্মাণ করেছেন পদ্মা সেতু, যা আমরা কখনো কল্পনা করিনি। আমরা চাঁদপুর-শরীয়তপুরের মাঝেও সেতু নির্মাণে সফল হবো।

 


ভাঙ্গন প্রতিরোধে চাঁদপুরের সুযোগ্য এমপি শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির আন্তরিকতার প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বোন আর ভাই একসাথে মিলে আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় শহরকে রক্ষা করবো। এজন্যে আপনারা আমাদেরকে দোয়া করবেন। তিনি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর প্রতি ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 


এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সি্নগ্ধা সরকার, হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নূর হোসেন পাটওয়ারী, চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ শফিকুর রহমান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়া, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আইউব আলী পাটওয়ারী, শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি চাঁদপুরের প্রতিনিধি অ্যাডঃ সাইফুর রহমান বাবু, চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাবুল, পৌর কাউন্সিলর মালেক শেখ প্রমুখ।

 


মন্ত্রী হরিসভা এলাকার ভাঙ্গন স্থান পরিদর্শনে এলে পুরাণবাজার হরিসভা মন্দির কমপ্লেঙ্রে সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক উমেষ চন্দ্র সাহা, সদস্য গোপাল সাহা, ডাঃ সহদেব দেবনাথ, কার্তিক সরকারসহ মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর পক্ষে শেখ শরীফ আহম্মদ, কাঞ্চন লস্করসহ প্রমুখ পানি সম্পদ উপমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করেন।

 


উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের আগস্ট মাসের ৩ তারিখ সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই পুরাণবাজার শহর রক্ষাবাধের হরিসভা মন্দির সংলগ্ন স্থানে ভয়াবহ মেঘনা নদীর ভাঙ্গন দেখা দেয়। কয়েক ঘণ্টা ভাঙ্গনের ফলে বসবাসরত বাড়ি-ঘর, স্থাপনাসহ বিশাল অংশ জুড়ে নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ ২০/২২ বছর পর এ স্থানে এমন ভাঙ্গন দেখে এলাকার মানুষসহ পুরো পুরাণবাজারবাসীর মাঝে ভাঙ্গন আতঙ্ক দেখা দেয়। ভাঙ্গন শুরু হলেও ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় প্রয়োজনীয় ট্রান্সপোর্টের জন্য। রাত ২টার পর শামুক গতিতে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কাজ শুরু হয়। চাঁদপুরের সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির যোগাযোগের মাধ্যমে ভাঙ্গন সংবাদ শুনে ঘটনাস্থল দেখার জন্য পর্যায়ক্রমে ছুটে আসেন পানি সম্পদ উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা ঘোষণা দেন বড় ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে যা যা করণীয় তার সবই করা হবে বলে। যা শুনে আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের মাঝে আশার আলো দেখা দেয়। সেই সময় ভাঙ্গন প্রতিরোধে গ্রহণ করা হয় সাময়িক ব্যবস্থা। কথা ছিল বর্ষা পার হলে শুকনো মৌসুমে স্থায়ীভাবে কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এরই মাঝে ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর বিকেলে প্রায় আড়াইমাসের মাথায় হরিসভা মন্দির কমপ্লেঙ্রে কিছুটা উত্তরে গিয়ে পুনরায় শহর রক্ষা বাধে ভাঙ্গন দেখা দেয় (বর্তমান ভাঙ্গনকৃত স্থান)। তলিয়ে যায় বাঁধের পাশে থাকা কয়েকটি বাড়িঘরসহ বেশ কিছু অংশ। ছুটে আসেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ। সেই সময় ও জরুরি ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ট্যাঙ্রে ব্যাগ ফেলে অবস্থা সাময়িকভাবে সামাল দেয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছিল বর্ষা পার হয়ে গেলে শুকনা মৌসুমে শহর রক্ষাবাধ রক্ষায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণপূর্বক কাজ করা হবে। কিন্তু সেই সময় বর্ষা পার হওয়ার পরও সময়মত কাজ না করায় এখন আবার পুরাণবাজারের মানুষের মাঝে পুনরায় ভাঙ্গন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তারা মনে করেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা না হলে, বর্ষা মৌসুমে এস্থানে প্রমত্তা মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিবে। ফলে ঐতিহ্যবাহী পুরাণবাজারের হরিসভা এলাকাসহ, মন্দির, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বসতবাড়ি কিছুই রক্ষা হবে না। তলিয়ে যাবে পুরাণবাজারের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র রাক্ষুসে মেঘনার অতলগর্ভে।

সর্বাধিক পঠিত